ইঁদুর-উইপোকায় খেল কৃষকের দুই লাখ টাকা, পাশে দাঁড়ালেন সৌদি প্রবাসী
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
প্রবাসীর দেওয়া দুই লাখ টাকা পেয়ে স্বস্তিতে কৃষক তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘ইঁদুর-উইপোকা নষ্ট করল কৃষকের দুই লাখ টাকা’- শিরোনামে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রচারের পর কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন মিজানুর রহমান সুমন নামের এক সৌদি আরব প্রবাসী।
তিল তিল করে কষ্টে জমানো দুই লাখ টাকা। সেই টাকা দিয়ে জমি বন্ধক নিয়ে নতুন করে কৃষিকাজ শুরু করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কৃষক তোফাজ্জল হোসেন (৭২); কিন্তু ঘরে রাখা সেই সঞ্চয় ইঁদুর ও উইপোকার কবলে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। চোখের সামনে সঞ্চয়ের টাকা নষ্ট হতে দেখে ভেঙে পড়েন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে ৯ আগস্ট দৈনিক যুগান্তর মাল্টিমিডিয়া ও ১০ আগস্ট দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রিন্টসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এবার অসহায় এই কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন সৌদি আরব প্রবাসী ওই ব্যবসায়ী। তিনি কৃষক তোফাজ্জল হোসেনকে দিয়েছেন নগদ দুই লাখ টাকা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারী গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তোফাজ্জল হোসেনের হাতে এ অর্থ তুলে দেন সৌদি আরব প্রবাসী মিজানুর রহমান সুমনের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জনি।
স্থানীয় সূত্র ও তোফাজ্জল হোসেনের পরিবার জানান, উপজেলার উত্তর ধুমাইটারী গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন দীর্ঘদিন থেকে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন; আর স্ত্রী ফাতেমা বেগম মানুষের বাড়িতে রান্নার কাজ করে সংসারে সহযোগিতা করেছেন। দুজনের কষ্টার্জিত উপার্জন থেকে অল্প অল্প করে জমিয়েছিলেন দুই লাখ টাকা। সেই টাকা দিয়ে জমি বন্ধক নিয়ে কৃষিকাজ করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
কিন্তু গত ৯ আগস্ট সকালে জমি বন্ধক নেওয়ার জন্য বাক্সে রাখা টাকা বের করতে গিয়ে তাদের সেই স্বপ্নে নেমে আসে অন্ধকার।
বাক্স খুলে দেখা যায়, ইঁদুর ও উইপোকা কেটে টাকাগুলো ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে। কষ্টের সঞ্চয় এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম।
কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অনেক কষ্ট করে দুই লাখ টাকা জমিয়েছিলাম। ঢাকায় রিকশা চালিয়েছি, আমার স্ত্রী মানুষের বাড়িতে রান্নার কাজ করেছে। সেই কষ্টের টাকা ইঁদুর ও উইপোকা কেটে নষ্ট করে ফেলেছে। টাকা নষ্ট হওয়ার পর কিভাবে চলব, তা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম।
কৃষক তোফাজ্জলের এই করুণ কাহিনী নিয়ে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি নজরে আসে সৌদি আরব প্রবাসী ও ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান সুমনের। অসহায় কৃষকের কষ্টের কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকালে নিজের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জনিকে তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে পাঠান মিজানুর রহমান সুমন। সেখানে গিয়ে কৃষকের হাতে নগদ দুই লাখ টাকা তুলে দেন।
এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান জনি বলেন, আমার বড় ভাই সৌদিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করেন। তিনি সবসময় অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তোফাজ্জল হোসেনের কষ্টের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি তার নজরে আসে। তার নির্দেশেই আমি এখানে এসে তোফাজ্জল ভাইয়ের হাতে দুই লাখ টাকা তুলে দিয়েছি।
সহায়তার টাকা হাতে পেয়ে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কেটে গেছে তোফাজ্জল হোসেন ও তার পরিবারের। এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা।
তোফাজ্জলের মেয়ে মোরশেদা বেগম বলেন, বাবার কষ্টের টাকা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর আমরা খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন প্রবাসী ভাইয়ের সহায়তায় আমাদের পরিবার অনেকটা স্বস্তি পেয়েছে। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
কৃষক তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, এই টাকা পেয়ে আমাদের অনেক চিন্তা দূর হয়েছে। আমরা খুব খুশি। আল্লাহতায়ালা মিজানুর রহমান ভাইকে নেক হায়াত দান করুন। এই টাকা দিয়ে শেষ বয়সে কিছু করে জীবন চালাতে পারব। আমাদের কষ্টের কথা তুলে ধরায় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকাসহ গণমাধ্যমের প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ।
