এসপির বাসভবনে পুলিশের আত্মহত্যার নেপথ্যে...
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
হাবিবুর রহমান
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাইবান্ধায় এসপির বাসভবনের নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্য হাবিবুর রহমানের আত্মহত্যার জট খুলতে শুরু করেছে। স্ত্রীর পরকীয়া জানতে পেরে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে তর্কে জড়িয়ে তিনি মোবাইলটি পাশে রেখে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
এ ব্যাপারে মৃতের সহকর্মী গার্ড কমান্ডার সোহেল রানা বাদী হয়ে গাইবান্ধা থানায় ইউডি মামলা দায়ের করেছেন। তবে ভিডিও কল রেকর্ড পরীক্ষা করলে আত্মহত্যার প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে জানান দায়িত্বশীল একজন পুলিশ কর্মকর্তা।
২০১৭ সালে দিনাজপুরের বিরামপুরের বাসিন্দা সুমাইয়া আকতারের সঙ্গে বিয়ে হয় পুলিশ সদস্য হাবিবুর রহমানের। যেখানে চাকরি করতেন স্ত্রী-সন্তানও সঙ্গে থাকতেন। চাকরির কারণে স্বামী হাবিবুর রহমান দায়িত্ব পালন করতেন অনেক সময় ধরে।
তার স্ত্রী নাকি স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানতে পেরে হাবিবুর রহমান স্ত্রীকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেন। ভেবেছিলেন সন্তান থাকলে হয়তো আর এসব থাকবে না; কিন্তু স্ত্রী তার গোপন সম্পর্ক চালিয়ে যান।
সম্প্রতি হাবিবুর রহমানকে ডিএমপি পুলিশ থেকে গাইবান্ধা পুলিশ লাইনসে বদলি করা হয়। তিনি গাইবান্ধায় পুলিশ সুপারের বাসভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। থাকতেন অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে এসপির গার্ড রুমে। তার সঙ্গে যারা থাকতেন তারা জানতেন- স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই পরকীয়াসহ পারিবারিক ঘটনা নিয়ে ফোনে উত্তপ্ত কথাবার্তা হতো হাবিবুরের। অপরপ্রান্ত থেকে স্ত্রী সুমাইয়াও বেপরোয়া কথা বলতেন স্বামী হাবিবুর রহমানকে।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নায়েক হাবিবুর রহমান পারিবারিক কলহের পর স্ত্রীর অবাধ্য কথাবার্তায় তিনি ক্ষেপে যান। ফোন হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে ভিডিও কলে কথা বলতে বলতে তাকে দেখিয়ে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে ফোনটি পাশে রেখে (যেখান থেকে আত্মহত্যার দৃশ্য দেখা যায়) আত্মহত্যা করেন।
প্রায় ২ ঘণ্টা পর সহকর্মী পুলিশ সদস্যরা ওয়াশরুম থেকে কোনো শব্দ না পেয়ে দরজা ফাঁক করে দেখতে পান হাবিবুর রহমানের নিথর দেহ ঝুলে আছে। পাশে মোবাইল রাখা।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর ওসি নাজমুল হুদা পারিবারিক কলহের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আত্মহননের আগেও তার সঙ্গে ফোনে কারো কথা কাটাকাটি হয়। ফোনে রাগারাগি করতে করতেই তিনি ওয়াশরুমে প্রবেশ করেন।
