এক সন্ধ্যায় নিভেছিল দুই প্রাণ, পাশাপাশি কবরে শায়িত বাবা-ছেলে
জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সন্ধ্যায় মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথিবী ছেড়েছিলেন বাবা ও ছেলে। বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সদ্যবিবাহিত ছেলে মাসুক আহমেদের (৩৮) মৃত্যুর খবর শুনে বাবা আব্দুল লতিফ (৬৭) মারা যান।
সোমবার জোহরের নামাজের পর একই ঈদগাহে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় বাবা-ছেলেকে।
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের খিলগ্রাম (খালপাড়) এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার খিলগ্রাম ঈদগাহে বাবা-ছেলের জানাজায় স্বজন, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।
জানাজার আগে পাশাপাশি দুটি কবর খোঁড়া হয়। একে একে বাবা ও ছেলের লাশ সেই কবরে নামানো হয়। জীবনের শেষ ঠিকানাতেও পাশাপাশি রয়ে গেলেন তারা। প্রিয়জনের এমন করুণ বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। উপস্থিত মুসল্লিদের অনেকের চোখও অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে।
মাসুক আহমেদ (৩৮) শাহগলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার নুসরাত লাইটিংয়ে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় কর্মস্থলে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়।
মাসুকের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তার বাবা আব্দুল লতিফ (৬৭)। স্বজনরা তাকে সামলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রায় দুই ঘণ্টার ব্যবধানে তারও মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
স্বজনরা জানান, মাসুকের বিয়ে হয়েছিল অল্প কিছুদিন আগে। নতুন সংসার নিয়ে তার ছিল অনেক স্বপ্ন ও পরিকল্পনা। জীবনের নতুন অধ্যায়ের আনন্দ কাটতে না কাটতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অকালে থেমে যায় তার জীবন। তার হাতে বিয়ের মেহেদির দাগও তখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি।
খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকও সেখানে গিয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ছেলের মৃত্যুর সংবাদে বাবাও মারা গেছেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত মাসুক আহমেদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে।
