মসজিদ কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গুলিবর্ষণ, যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে যখম
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মসজিদ কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোহাম্মদ হোসেন নামের এক যুবদলকর্মীসহ পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় ওই যুবদলকর্মীর বাড়িতে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণেরও ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বস্তল উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারীরা ওই যুবদলকর্মীর বাড়ি-ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
আহত মোহাম্মদ হোসেনকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল উত্তরপাড়া জামে মসজিদ কমিটিতে সভাপতি পদে যুবদলকর্মী মোহাম্মদ হোসেনের শ্বশুর বিএনপি নেতা মো. আমানউল্লাহ মিয়া দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ না হতেই কমিটির সভাপতি পরিবর্তন করতে পাঁয়তারা শুরু করেন একই এলাকার জালালউদ্দিনের ছেলে বিএনপিকর্মী মাসুদ মিয়া, তার ভাই রোকন উদ্দিন ও মামুন মিয়া। এ নিয়ে গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ এলাকায় রোকন উদ্দিনের সঙ্গে দাইয়ানের ছেলে মোহাম্মদ হোসেনের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় মোহাম্মদ হোসেন উত্তেজিত হয়ে রোকন উদ্দিনকে থাপ্পড় মারেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ধ্যায় রোকন উদ্দিনের নেতৃত্বে বস্তল এলাকার মাসুদ মিয়া, মামুন মিয়া, শেখ সাদি, আরিফ হোসেন ও বহিরাগত সন্ত্রাসী আলী হোসেনের নেতৃত্বে ১০/১৫ জনের একটি দল আগ্নেয়াস্ত্র, রাম দা, হসিস্টিক, লোহার রড নিয়ে মোহাম্মদ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তিন রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ঘরের ভেতরে থাকা ফ্রিজ, টিভি, আলমারি ও আসবাবপত্রসহ তিনটি কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা এ সময় মোহাম্মদ হোসেনকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পিটিয়ে আহত করে মোহাম্মদ হোসেনের স্ত্রী তুলি আক্তার, মা নূর বানু ও বোন ইয়াসমিনকে। পরে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত যুবদলকর্মী মোহাম্মদ হোসেনের বোন আহত ইয়াসমিন জানান, সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িতে এসে প্রথমে গুলিবর্ষণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে তারা ঘরের ভেতর প্রবেশ করে তার ভাই মোহাম্মদ হোসেনকে কুপিয়ে পেটের নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলে।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা আমাদেরকেও পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও বাড়িতে থাকা নগদ ৫ লাখ লাখ টাকা এবং আনুমানিক ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
তালতলা বাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক সেলিম মিয়া জানান, হামলা ও গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হামলাকারীরা ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে ও এক যুবদলকর্মীকে কুপিয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালতলা তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) জসিমউদ্দীন জানান, মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এক যুবদলকর্মীর বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ফাঁকা গুলিবর্ষণের কথাও উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি আব্দুল বারিক বলেন, মোহাম্মদ হোসেনের বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।

