এসিল্যান্ডের চ্যালেঞ্জ
একপয়সা ঘুস নিয়েছি প্রমাণ দিতে পারলে চাকরি ছেড়ে দেব
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভুঁইফোড় পোর্টালের অনৈতিক দাবি ও অপপ্রচারের মুখে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরাফাত হোসাইন। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, কর্মজীবনে সরকারি ফির বাইরে কারো কাছ থেকে এক টাকা ঘুস নেওয়া বা চাওয়ার প্রমাণ দিতে পারলে তিনি চাকরি ছেড়ে দেবেন।
রোববার সন্ধ্যায় কমলনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরাফাত হোসাইন তার পরিচালিত ‘এসিল্যান্ড কমলনগর’ (AC LAND Kamalnagar) ফেসবুক আইডিতে এমনই মন্তব্য করে দীর্ঘ একটি লেখা পোস্ট করেন। লেখাটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে আলোচনার সৃষ্টি হয়। ফেসবুকে এই কর্মকর্তাকে নিয়ে রীতিমতো প্রশংসার ঝড় ওঠে। অন্তত কর্মঠ এবং সৎজনবিদিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকেই।
ঘটনার বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর একটি অনিবন্ধিত পোর্টালের কতিপয় ব্যক্তি কমলনগর উপজেলা ভূমি অফিসে এসিল্যান্ড মো. আরাফাত হোসাইনের দপ্তরে যান। সেখানে জমিসংক্রান্ত একটি চলমান নামজারি মামলার বাদীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে তারা অনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে ওই ব্যক্তিরা নিজেদের বড় পরিচয় দিয়ে অনৈতিক সুবিধা হাসিলের চেষ্টা চালালে এসিল্যান্ড অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এর প্রতিবাদ জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাংবাদিক পরিচয়ধারীদের অহংকারী আচরণের জবাবে এসিল্যান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আইনকানুন ও বিধিমালার বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই। ভিডিওর একপর্যায়ে অনৈতিক চাপের মুখে সততার আত্মবিশ্বাস থেকে এসিল্যান্ড বলেন, অফিসে কারো কাছ থেকে আমি টাকা নিয়েছি বা দাবি করেছি—এমন প্রমাণ কেউ করতে পারলে আমি চাকরি ছেড়ে দেব।
এ বিষয়ে ভূমি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসাইন তার পরিচালিত ‘এসিল্যান্ড কমলনগর’ (AC LAND Kamalnagar) ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, যোগদানের পর থেকেই ভূমি সেবাকে শতভাগ দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি পালন করছেন। সরকারি ফির বাইরে কেউ কোনো অবৈধ লেনদেন করেছে কিনা, শুনানিকালে তিনি নিজেই সেবাগ্রহীতাদের কাছে জানতে চান। এমন অবস্থায় স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের প্রতিবাদেই তিনি এ উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, বিচারিক প্রক্রিয়া না মেনে সরকারি দপ্তরে হট্টগোল সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। নামজারি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে বিধি অনুযায়ী আপিলের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে একজন সৎ কর্মকর্তাকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হেয় করার চেষ্টা তীব্র নিন্দনীয়।
