নতুন কবর ঘিরে নানা প্রশ্ন
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
নতুন কবর ঘিরে নানা প্রশ্ন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের আল আমিন বাজার মসজিদ ও মাদ্রাসা–সংলগ্ন কবরস্থানে রাতে কাউকে না জানিয়ে একটি লাশ দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কবরস্থানে গিয়ে স্থানীয় লোকজন নতুন কবরটি দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কবরস্থানে আগে থেকেই কয়েকটি কবর রয়েছে। এর মধ্যে একটি পাকা কবরের পাশে নতুন কবরটি দেওয়া হয়েছে। রাতে দাফন করায় বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও মসজিদের ইমামের কেউ আগে জানতে পারেননি।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, এলাকায় সাধারণত কারো মৃত্যু হলে তার লাশ দাফনের আগে বিষয়টি আশপাশের লোকজন জানতে পারেন। কিন্তু এই দাফনের ক্ষেত্রে তাদের কাউকে জানানো হয়নি। পরে তারা জানতে পারেন, পাশের বাড়ির খোরশেদ পাটোয়ারী চাঁদপুর থেকে একটি মৃত নবজাতকের লাশ এনে সেখানে দাফন করেছেন।
খোরশেদ পাটোয়ারী বলেন, চাঁদপুরে তার মেয়ের বাড়িতে একটি মৃত সন্তান জন্ম নেয়। পরে ওই নবজাতকের লাশ তিনি রামগঞ্জে নিজের বাড়ির কাছে নিয়ে আসেন। এরপর রাতের শেষদিকে আল আমিন বাজার মসজিদ ও মাদ্রাসা–সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করেন।
খোরশেদ পাটোয়ারীর দাবি, দাফনের আগে তিনি আলহাবিব কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন। তারা তাকে জানান, মৃত নবজাতকের জানাজা পড়ার প্রয়োজন নেই। এ কারণে তিনি জানাজা ছাড়াই শিশুটিকে দাফন করেন।
রাতে দাফন করার কারণ জানতে চাইলে খোরশেদ পাটোয়ারী বলেন, রাতের শেষ সময়ে লাশটি নিয়ে আসায় স্থানীয়দের জানানোর সুযোগ হয়নি।
এদিকে কবরস্থানে রাতের আঁধারে কাউকে না জানিয়ে লাশ দাফনের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কবরস্থানে কাকে দাফন করা হয়েছে এবং দাফনের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কিনা, তা নিয়েও তারা জানতে চান।
রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
