অসুস্থ গাভীর মাংস ভাগাভাগি, নারী-শিশুসহ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ২০
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নে আবারও অ্যানথ্রাক্স উপসর্গে নারী-শিশুসহ অন্তত ২০ জনের শরীরে ক্ষত দেখা দিয়েছে। এর আগে ওই এলাকার একটি গাভী অসুস্থ হলে সেটি জবাই করে মাংস ভাগাভাগি করে নেন স্থানীয়রা। সেই মাংস খাওয়ার পর অনেকের শরীরে বিভিন্ন অংশে ফোসকা ও ঘা হয় এবং জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েন।
আক্রান্তরা শনিবার থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আক্রান্তদের যথাযথ পরামর্শ দিয়েছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির গাভী অসুস্থ হয়। শুক্রবার অসুস্থ গরুটি তড়িঘড়ি করে জবাই করে এলাকার লোকজন মাংস ভাগাভাগি করে নেন। মাংস কাটাছেঁড়া ও জবাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এলাকার বেশ কয়েকজন। তারা শুক্রবার মাংস রান্না করে খেয়ে ফেলেন। শনিবার গ্রামের অনেকের শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোসকা, ঘা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েন।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠে দেখা যায়, তীব্র রোদেও জ্বর ও পেটে বড় আকারের ফোসকা নিয়ে শুয়ে আছেন জয়নাল আবেদীন।
অন্য আক্রান্তরা হলেন- রুমি বেগম, রশিদা বেগম, আব্দুল জলিল, সফিউল ইসলাম চান মিয়া, শফিক, জয়নাল আবেদীন, আব্দুর রশিদ, গোলেজান বেগম, রাবেয়া খাতুন, রাহেলা খাতুন, শরিতোন নেছা, দোলেনা আকতার, আজমিন আরা, ফাহিমা, ফুলমতি বেগম, নুর আকাইদসহ ২০ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান জানান, অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে পূর্ব বাছহাটি গ্রামের ২০ জন রোগী জরুরি বিভাগে এসেছেন। তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। আতঙ্কের কিছু নেই। চিকিৎসায় এ রোগ ভালো হয়। আশা করি তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ইতোপূর্বেও রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫ জন। সেটা সামাল দিতে সামাজিকভাবে বিভিন্ন বৈঠক ও উপজেলা প্রশাসন থেকে সতর্কতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। কসাইদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গবাদিপশু জবাই করার আগে প্রাণিসম্পদ বিভাগের ছাড়পত্র নেওয়ার বিষয়ে মাইকিং করা হয়েছে; কিন্তু এসব আইন বা নিয়মের তোয়াক্কা না করায় মানুষ বারবার আক্রান্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে সোমবার সকালে সুন্দরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে সচেতনমূলক সভা আহ্বান করা হয়েছে।
