সরকারি জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে
নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
অভিযুক্ত সোহেল মোল্লা। (ডান পাশে)
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের সদরপুরে সরকারি জায়গা দখল করে পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে সদরপুর বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে সরকারি সড়কের পাশে মাইক্রোস্ট্যান্ড সংলগ্ন প্রায় দুই শতাংশ জায়গায় এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত সোহেল মোল্লা সদরপুর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সদরপুর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দলের নাম ব্যবহার করে কেউ সরকারি জায়গা দখলের মতো কর্মকাণ্ডে জড়ালে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরাও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদরপুর বালুর মাঠ এলাকার মাইক্রোস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে দোকানঘর নির্মাণের কাজ চলছিল। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে কিংবা কথা বলতে গেলে সোহেল মোল্লার রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা হুমকি-ধামকির অভিযোগও করেছেন।
তবে জায়গাটি সরকারি নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন, তা নিয়ে রয়েছে ভিন্ন দাবি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তবে বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক নান্নু মোল্লার দাবি, জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত। সীমানাপ্রাচীরের বাইরে হওয়ায় বর্তমানে এটি খাস খতিয়ানের আওতাভুক্ত হয়ে থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
তবে জায়গাটি নিজেদের বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত সোহেল মোল্লা। তিনি সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিজেদের জায়গাতেই তারা স্থাপনা নির্মাণ করছিলেন। তবে উপজেলা ভূমি অফিসের লোকজন এসে জায়গাটি পরিমাপ করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ায় আপাতত কাজ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ধলা মৃধা বলেন, দলের নাম বা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ সরকারি জায়গা দখলের মতো কর্মকাণ্ড করলে এর দায় দলের ওপরও পড়ে এবং এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। সরকারি জায়গা হলে তা উদ্ধার করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দলীয়ভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে দাবি করেন তিনি।
মাইক্রোস্ট্যান্ডে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিকও জায়গাটি সরকারি হলে তা দ্রুত উদ্ধার করে জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে মাঠে নামে উপজেলা প্রশাসন। ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে জায়গাটি পরিমাপ করেছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন।
তিনি বলেন, জায়গাটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যারা স্থাপনা নির্মাণ করছেন, তারা জায়গাটি নিজেদের বলে দাবি করেছেন। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিমাপ ও যাচাই-বাছাই শেষে জায়গাটি সরকারি বলে প্রমাণিত হলে সেখানে নির্মিত স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগের সত্যতা মিললে স্থাপনা উচ্ছেদসহ পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

