গোপালগঞ্জে বৃদ্ধার জমি দখলের অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ করায় প্রতিবন্ধী ছেলেকে মারধর
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১১ পিএম
ঘটনায় প্রতিবাদ জানায় ভুক্তভোগী পরিবার। ইনসেটে ভুক্তভোগী শুকুরন্নেসা বেগম।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গোপালগঞ্জ শহরের শিশু বন এলাকায় এক অসহায় বৃদ্ধার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধা শুকুরন্নেসা বেগমের প্রতিবন্ধী ছেলে জাফর শেখ ও তার স্ত্রী সাবিনা বেগমকে বেধড়ক মারধর ও আহত করার অভিযোগও উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা মিঠু মুন্সি ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলের স্ত্রী সাবিনা বেগম বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে ওই এলাকার মুক্তাদির মোল্লা ও তার ছেলে নওশের মোল্লার কাছ থেকে শুকুরন্নেসা ৩০ শতাংশ জমি কেনেন। পরবর্তীতে তিনি তার চার সন্তানের মধ্যে ওই জমি ভাগ করে দেন। সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে তারা বসবাস শুরু করেন।
তিন বছর আগে গোপালগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মিঠু মুন্সি এবং তার দুই ভাই লিটু মুন্সি ও তামিম মুন্সি দলীয় লোকজন নিয়ে শুকুরন্নেসার জমির মধ্যে তাদের জমি আছে দাবি করে ৮ শতাংশ জমি জোর করে দখল করেন বলে অভিযোগ। ওই জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করবেন বলেও ঘোষণা দেন তারা।
এদিকে, এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ভুক্তভোগী পরিবারকে ওই জায়গা থেকে চিরতরে উচ্ছেদ করা হবে, এমনকি জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শুকুরন্নেসা ও তার পরিবারের সদস্যরা।
বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্থানীয়রা কয়েক দফা উদ্যোগ নিলেও অজ্ঞাত কারণে তাদের সে উদ্যোগ বারবার ভেস্তে যায় বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর স্থানীয়রা এ সমস্যা সমাধানে বৈঠকের আয়োজন করেন। সালিশ চলাকালে আওয়ামী লীগ নেতা মিঠু মুন্সির লোকজন শুকুরন্নেসা বেগমের বড় ছেলে শ্রবণপ্রতিবন্ধী জাফর শেখকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। পরে গুরুতর অবস্থায় তিনি ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগী শুকুরন্নেসা বেগমের ছেলে রিকশাচালক শহিদুল তালুকদার বলেন, আমার বৃদ্ধা মা ও ভাইয়েরা ৩০ বছর ধরে এ বাড়িতে বসবাস করে আসছি। মিঠু মুন্সি তিন বছর আগে ক্ষমতার জোরে আমাদের বাড়ির মধ্য থেকে ৮ শতাংশ জায়গা জোর করে দখল করে নেন। আমরা প্রতিবাদ করলে মিঠু তার দলীয় লোকজন দিয়ে আমাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করে।
নির্যাতনের শিকার জাফর শেখের মেয়ে মিম আক্তার বলেন, মিঠু মুন্সির নেতৃত্বে লোকজন আমার প্রতিবন্ধী বাবাকে নির্দয়ভাবে মারধর করেছে। তারা আমাদের খুন করার হুমকি দিয়েছে।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধা শুকুরন্নেসা বেগম বলেন, মিঠু মুন্সি বর্তমানে অব্যাহতভাবে চিরতরে আমাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য নানা রকম হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। মিঠু মুন্সি ও তার লোকজন খুবই বেপরোয়া। কাউকে তারা মানে না। আমি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
অভিযুক্ত মিঠু মুন্সির মা রহিমা বেগম বলেন, গ্রামের পাপা মোল্লার কাছ থেকে আমরা ১১ শতাংশ জমি কিনেছি। এর মধ্যে আমাদের ৮ শতাংশ জায়গা শুকুরন্নেসা বেগমের জায়গার মধ্যে রয়েছে। আমরা আমাদের জায়গা বুঝে নিয়েছি এবং তাদের নিচের দিকে সরে যেতে বলেছি। আমরা জোর করে কারও জায়গা দখল করিনি। এছাড়া স্থানীয়রা সালিশ করে যে শর্ত দিয়েছেন, আমরা সব শর্ত মেনে নিয়েছি। তারপরও কেন আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে?
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম মামলার কথা স্বীকার করে বলেন, মামলায় এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

-6abb6e9fc6ab4.jpg)