কুমিল্লায় চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে বিএনপির দুগ্রুপের টেঁটাযুদ্ধ, আহত ২০
কুমিল্লা উত্তর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চালিভাংগা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে বিএনপির দুগ্রুপের মধ্যে টেঁটাযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে চালিভাংগা ইউনিয়নের নলচর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
আহতরা হলেন ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মো. শহিদুল্লাহ (২০), যুবদল নেতা মো. ওয়াসিম প্রধান (৪০), ছালমা আক্তার (২৫), জয়মালা আক্তার (৫০), শরুফা আক্তার (৪৫) ও চালিভাংগা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল সরকার (৪৫)। এদের মধ্যে ছালমা আক্তার ও জামাল সরকারের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চালিভাংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নলচর গ্রামবাসী বৈঠক করে যুবদল নেতা রবিউল্লাহ রবিকে গ্রামের একক প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেন। এ সময় একই গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. বারেক প্রধানও বৈঠকে রবিউল্লাহ রবিকে সমর্থন করেন।
পরবর্তীতে বারেক প্রধান নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এ নিয়ে রবি গ্রুপ ও বারেক গ্রুপের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বারেক প্রধানের ছেলে মহসিন সোমবার রাতে রবিউল্লাহ রবির সমর্থকদের ধাওয়া করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে উভয় গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, যুবদল নেতা রবি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করছেন।
সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন চালিভাংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। তারই জেরে মঙ্গলবার সকালে দুই গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া উভয় গ্রুপের একাধিক মামলা বিচারাধীন আছে।
মেঘনা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
সংঘর্ষের বিষয়ে বারেক প্রধান ও রবিউল্লাহ রবির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

-6abb71c48cd74.jpg)