কাজের প্রলোভনে স্কুলছাত্রীকে পাচারের চেষ্টা, গ্রেফতার ২
যশোর ব্যুরো
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যশোরের অভয়নগরে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ করে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে রাতুল শেখ ও মুজাহিদ মোল্লা নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক প্রেস নোটে এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতার রাতুল শেখ (২১) ও মুজাহিদ মোল্লা (২৩) নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের যথাক্রমে তাজউদ্দিন শেখ ও আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের নলামারা গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল ১৪ বছরের ওই মেয়েটি। তখন একটি মোটরসাইকেলে এসে তাকে অপহরণ করে রাতুল শেখ ও মুজাহিদ মোল্লা।
মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে অভয়নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তারা জানতে পারেন, রাতুল শেখ তাকে অপহরণ করেছে। এরপর রাতুল শেখ, তার বাবা ও বোনসহ ছয়জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মেয়েটির বড় বোন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভয়নগর থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতুল শেখ ও তার বাবা তাজউদ্দিন শেখকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ এবং রিমান্ড আবেদন করেন।
পুলিশের প্রেস নোট অনুযায়ী, ভুক্তভোগী মেয়েটিকে প্রথমে খুলনার সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে অজ্ঞাত মানব পাচারকারীদের মাধ্যমে বাসযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় আসিফ নামে এক ব্যক্তির কাছে আরও চারজন মেয়ের সঙ্গে তাকে আটকে রাখা হয়। তাদের একজন নারী পাহারা দিতেন বলে পুলিশ জানায়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে খাওয়া শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে মেয়েটি কৌশলে পালিয়ে গুলিস্তান বাস কাউন্টারে গিয়ে তার বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
মেয়েটি পুলিশকে জানিয়েছে, স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায়ই ওই দুজন তাকে ভালো বেতনে কাজের প্রলোভন দেখাত।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার রাতুল শেখ ও মুজাহিদ মোল্লা নারী অপহরণ ও পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা গ্রামের সহজ-সরল মেয়েদের অর্থ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারীদের কাছে তুলে দিত। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
