জাল দলিলে জমি আত্মসাৎ, সাবরেজিস্ট্রারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
যশোর ব্যুরো
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যশোর শহরের ঘোপ জেল রোডের ৬ শতক জমি জাল দলিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে সাবরেজিস্ট্রারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শহরের ঘোপ জেল রোডের বাসিন্দা ফজলে আকবরের ছেলে ফজলে রাব্বী বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা বেগম অভিযোগটি তদন্ত করে আগামী ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী দেবাশীষ দাস।
মামলার আসামিরা হলেন- যশোরের সাবরেজিস্ট্রার আমেনা বেগম, ঘোপ জেল রোডের হারুন-অর-রশীদের ছেলে মোশারফ হোসেন, উপশহর ৭ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা মাওলানা জুলফিকার আলীর স্ত্রী ফজলিয়ারা খাতুন, ঘোপ জেল রোডের গোলাম রব্বানীর ছেলে দলিলের সাক্ষী ফকরুল কবির বুলবুল, সদর উপজেলার সুজলপুরের জোনাব আলীর ছেলে দলিলের সাক্ষী মহসিন আলী, উপশহর ১ নম্বর সেক্টরের মোশারফ হোসেনের ছেলে দলিলের সাক্ষী জামাল হোসেন, ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের মুজিবর রহমানের ছেলে দলিল শনাক্তকারী ওমর ফারুক সাগর এবং পাগলাদাহ গ্রামের দলিল লেখক কাজী রুহুল কুদ্দুস।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, প্রধান আসামি মোশারফ হোসেন দীর্ঘদিন বাদী ফজলে রাব্বীর বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন। ফজলে রাব্বীর বাবা ফজলে আকবর ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর যশোর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ১৪২৯৯ নম্বর দলিলের মাধ্যমে আরএস ১৭৭০ দাগসহ বিভিন্ন দাগের মোট ৮২ দশমিক ৪৫ শতক জমি রেজিস্ট্রি করেন। পরে বাদী নিজের নামে নামজারি করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছিলেন।
তবে ওই জমির মধ্য থেকে ৬ শতক জমি মোশারফ হোসেন ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর ১৪২৭৪ নম্বরের একটি জাল কবলা দলিল তৈরি করেন। পরবর্তী সময়ে ওই দলিলের ভিত্তিতে নামজারির উদ্যোগ নেন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে ফজলে রাব্বী দেওয়ানি মামলা দায়ের করলে ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট আদালত তার পক্ষে একতরফা আদেশ দেন।
ওই আদেশে বিরোধপূর্ণ জমিতে উচ্ছেদ, মাটি কাটা, স্থাপনা নির্মাণ, হস্তান্তর কিংবা জমির প্রকৃতি পরিবর্তনের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই আপিল আদালতও আগের নির্দেশ বহাল রাখেন।
ফলে ফজলে রাব্বীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যশোর সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ২০২৩ সালের ২৬ জুলাই বিরোধপূর্ণ ৬ শতক জমির নামজারি সংক্রান্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন।
এরপরও আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জাল ডিসিআর তৈরি ও ব্যবহার করে জমিটি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট যশোর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ১০৫৬৩/২০২৫ নম্বর সাফ-কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। এতে ৬ শতক জমির বিক্রয়মূল্য দেখানো হয় ৩ কোটি টাকা।
এ ঘটনায় সাবরেজিস্ট্রার আমেনা বেগমসহ অপর আসামিরা জাল দলিল সম্পাদন, প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন।
ফজলে রাব্বী খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই প্রস্তুতকৃত ডিসিআরের কোনো অস্তিত্ব নেই। ভুয়া ডিসিআর ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রি এবং জমির প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কম মূল্য দেখিয়ে সরকারি রাজস্ব ও ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসামিরা দুর্নীতিমূলক অপরাধ করায় তিনি আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।
