পুলিশকে পিটিয়ে আ.লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেয় স্বজন-অনুসারীরা, অতঃপর...
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক স্থানীয় নেতাকে গ্রেফতারের সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে স্বজন ও অনুসারীরা। এতে দুই পুলিশ সদস্য রক্তাক্ত জখম হন এবং হাতকড়াসহ ওই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৯ জনকে গ্রেফতার করে। পরে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া মূল আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দীককেও (৭০) গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পলাতক আবু সিদ্দীককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে দামুড়হুদার দর্শনা থানা-পুলিশ চণ্ডীপুর গ্রামের একটি মন্দিরের সামনে থেকে আবু সিদ্দীককে আটক করে। আটকের পর হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়ার পথে তার পরিবারের সদস্যসহ কয়েকজন পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে দর্শনা থানার এসআই মোল্লা আরিফুল ইসলাম ও কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।
এ সময় হামলাকারীরা এসআই আরিফুলের হাত থেকে হাতকড়াসহ আবু সিদ্দীককে ছিনিয়ে নেয় এবং পুলিশের একটি মোটরসাইকেলের হেডলাইট ও লুকিং গ্লাস ভাঙচুর করে।
খবর পেয়ে দর্শনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুখলেসুর রহমান এবং দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরুল্লাহ অতিরিক্ত ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে রাতে পুলিশ গ্রামটিতে অভিযান চালিয়ে নারীসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে। অভিযানকালে পুলিশ হামলাকারীদের কাছ থেকে ৯টি বাঁশের লাঠি ও দুটি হাঁসুয়া জব্দ করে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—চণ্ডীপুর গ্রামের ফুলন হালদার, মো. আলম, সোনালী হালদার, কনা রানী, নাসিমা আক্তার, ফরহাদ আলী, ফিরোজ হোসেন, লক্ষণ হালদার এবং দর্শনা দক্ষিণ চাঁদপুরের আশরাফ আলী। মূল আসামি আবু সিদ্দীকসহ এ মামলায় মোট ১০ জন গ্রেফতার হলেন।
এদিকে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চণ্ডীপুর তেঁতুলতলা এলাকায় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছামাদকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
আহত বিএনপি নেতা আব্দুস ছামাদ অভিযোগ করে বলেন, সকালে তেঁতুলতলা এলাকায় অবস্থান করার সময় শুকুর আলী, সাইদ ও মেহেদি নামে তিন ব্যক্তি লোহার রড ও কাঠের বাটাম নিয়ে হঠাৎ আমার ওপর হামলা চালায়।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দীককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার সঙ্গে বিএনপি নেতা আব্দুস ছামাদের ওপর হামলার সম্পৃক্ততা রয়েছে। হামলায় জড়িতদের কয়েকজন বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও অতীতে তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল।
দর্শনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুখলেসুর রহমান জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় মূল আসামিসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতা আব্দুস ছামাদের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দীককে আটক করতে গেলে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এতে আমাদের দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশি অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানে সহায়তাকারী ৯ জনকে গ্রেফতারের পর ছিনিয়ে নেওয়া মূল আসামি আবু সিদ্দীককেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
