ধর্ষণের অভিযোগ
৭০ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে অনশন করা সেই ৮০ বছরের বৃদ্ধার বিয়ে
Advertisement
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ধর্ষণের বিচার চেয়ে অভিযুক্ত ৭০ বছর বয়সি বৃদ্ধের বাড়িতে গিয়ে টানা চারদিন অনশন করা ৮০ বছর বয়সি বৃদ্ধা শাহিদাকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত বৃদ্ধ আরশেদ আলীর সঙ্গে শাহিদার বিয়ে পড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ৯টায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কলেজ রোডের নিকাহ রেজিস্টার লোকমান হোসেনের কার্যালয়ে এই বিয়ে হয়। এ বিয়ের সাক্ষী হলো আরশেদ আলীর কনিষ্ঠ পুত্র জুয়েল হোসেন এবং তার দুই আত্মীয়।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দিগলআটা গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী শাহিদা বেগম গত রোববার রাতে একই গ্রামের কবিরাজ আরশেদ আলীর হাতে ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শাহিদার ছেলে হেলাল মিয়া অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে কবিরাজ আরশেদ আলী ঝাড়ফুঁক দেওয়ার নামে তার মাকে ডেকে বাইরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। বৃদ্ধার ডাকচিৎকারে নাতি রাসেল গিয়ে ধর্ষক আরশেদ আলীকে হাতেনাতে আটক করে। পরে আশপাশের বাড়ির মানুষ এসে ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। কিন্তু আরশেদ আলীর ছেলে ও নাতিরা লাঠিসোটা নিয়ে এসে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
গ্রামের মাতব্বর মজিবর রহমান এবং জাবেদ আলী ভুক্তভোগীকে আশ্বস্ত করেন যে, গ্রাম্য সালিশে বিষয়টি মীমাংসা করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে মীমাংসা না হওয়ায় ভুক্তভোগী শাহিদা বেগম বিচারের দাবিতে গত মঙ্গলবার হতে আরশেদ আলীর বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ভুক্তভোগীকে অনশনরত অবস্থায় দেখতে পান।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফজুর রহমান জানান, রাত আটটার দিকে অভিযুক্ত আরশেদ আলী, ছেলে জুয়েল হোসেন এবং অন্যান্য আত্মীয়রা ভুক্তভোগীকে জোর করে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যান। গ্রামবাসীরা ভুক্তভোগীকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তারা জানান, ঘাটাইল উপজেলার এক নিকাহ রেজিস্টারের অফিসে গিয়ে দুজনের বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে গত শুক্রবার রাত ৮টার পর শাহিদা বেগমকে আরশেদ আলীর বাড়িতে না পেয়ে এবং তাকে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ছেলে হেলাল মিয়া, নাতি নাজমুল হাসান, শিপন ও রাসেল গোপালপুর থানায় যান।
নাজমুল হোসেন অভিযোগ করেন, দাদির ধর্ষণের শিকার হওয়া এবং অনশনরত অবস্থায় অপহরণ করার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে চান। কিন্তু থানার এসাই চন্দন বাবু লিখিত অভিযোগ না নিয়ে তাদেরকে থানার একটি কক্ষে আটকিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন। রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সেখানে আটকে রাখার পর সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে এসাই চন্দন বাবু তাদেরকে জানান, ঘাটাইল উপজেলার এক নিকাহ রেজিস্টারের অফিসে তোমার দাদির বিয়ে হয়ে গেছে। তাই মামলা-মোকদ্দমা না করে সামাজিকভাবে ফয়সালা করো।
ভুক্তভোগীর ছেলে হেলাল মিয়া অভিযোগ করেন, আমরা তো মায়ের বিয়ের খবর শুনতে থানায় যাইনি। মায়ের সম্মানহানির বিচার চেয়েছিলাম। মামলা না নিয়ে উল্টো বিয়ের খবর দিয়ে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আরশেদ আলীর পুত্র জুয়েল হোসেন জানান, একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে তার বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ এনে ওই মহিলাকে দিয়ে টানা কয়েক দিন বাড়িতে অনশনের নাটক করায়। পারিবারিক সম্মান বাঁচাতে শাহিদা বেগমকে রাজি করিয়ে ঘাটাইলের এক নিকাহ রেজিস্টারের অফিসে ৫০ হাজার টাকা কাবিনমূল্যে তাদের দুজনের বিয়ে পড়ানো হয়েছে।
গোপালপুর থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী শাহিদা বেগমকে পান নাই। কেউ ধর্ষণের শিকার হলে ভুক্তভোগীকে থানায় আসতে হয়। ভুক্তভোগী থানায় না আসায় মামলা নেওয়া হয়নি। কাউকে থানায় আটকিয়ে হয়রানি করা হয়নি। ভুক্তভোগী মামলা দিলে যেকোনো সময় মামলা নেওয়া হবে।

-6abfa2694e426.jpg)