পরকীয়া সন্দেহে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে কিশোর ওমরকে হত্যা
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পরকীয়া সন্দেহের জেরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে কিশোর ওমর আলীকে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে অপহরণ, নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. নজরুল ইসলামকে (৪৮) গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সংস্থাটির পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
গ্রেফতার নজরুল ইসলাম রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানি গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি বালিয়াকান্দির ঢোলজানি গ্রামের একটি ঘাসখেত থেকে নিখোঁজ কিশোর ওমরের (১৪) লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ৫ জানুয়ারি নিহতের বাবা আহেদ আলী বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে ফরিদপুর পিবিআই।
পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, টানা পাঁচবার চেষ্টার পর অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ অক্টোবর রাতে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল স্বীকার করেছে, প্রতিবেশী দুই গৃহবধূর সঙ্গে কিশোর ওমরের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকে বিরোধের সূত্রপাত। এই ক্ষোভ থেকেই ওমরকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় একটি চক্র।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে নজরুলসহ অন্যরা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি রাতে ওমরকে তুলে নিয়ে একটি নির্জন স্থানে আটকে রাখা হয়। সেখানে গায়ের জামা দিয়ে হাত-পা বেঁধে বাথরুমে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতনের পর ২ জানুয়ারি দিবাগত রাতে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পাশের ঘাসখেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ঘাতকরা।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আরও জানান, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে মোট পাঁচজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে অর্থদাতাদের নাম আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না। গ্রেফতার আসামিকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড এবং পলাতক অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
