সভায় মীর শাহে আলম
বগুড়ার উন্নয়নে ১০ হাজার কোটি টাকার রেলপথসহ নানা প্রকল্প
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দীর্ঘ ২০ বছরের উন্নয়নবঞ্চনা কাটিয়ে বগুড়াকে শিল্প, যোগাযোগ ও অর্থনীতির কেন্দ্রে পরিণত করতে বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকার বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ, প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার স্পোর্টস ভিলেজ এবং সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে ‘বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের সুবিধার্থে বগুড়ায় বহুমাত্রিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
শহরের যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধনে করতোয়া নদীর পাশ দিয়ে চার লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রধান সড়কগুলো চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যানজট নিরসন ও নগরায়ণের প্রাথমিক কাজের জন্য ইতোমধ্যে ৭০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বগুড়া সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলার টেকসই উন্নয়নে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পৌরসভাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে আরও ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
বগুড়ায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আরাফাত রহমান কোকো প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ’ গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়া বগুড়া ওয়াসা ও বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডিএ) গঠনের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিল্পায়নের গতি বাড়াতে শিগগিরই বিসিক শিল্প পার্কের কাজ শুরু হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি গবেষণা ও বহুমুখী উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলার ডাকবাংলো ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নয়নেও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।
বগুড়ার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, কৃষিতে উদ্বৃত্ত এ জেলায় বছরে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। অথচ গত ২০ বছর ধরে অঞ্চলটি কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। বগুড়াকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করতে সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে সমান গুরুত্ব দেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং গোপালগঞ্জের জন্য ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট জেলার জন্য নয়; দেশের সব মানুষের জীবনমান উন্নত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে ভালো কাজের প্রতি সমর্থন জানানো এবং বগুড়ার সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর সম্পাদক লোটন একরামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ-সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ-সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান ও পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ প্রমুখ।

-6ada25cf5146f.jpg)