‘আমি টাকা চাই না, ইয়াছিনকে আমার স্বামী হিসেবে চাই’
Advertisement
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
ইয়াছিন আরাফাত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক তরুণের বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ গত ১৮ অক্টোবর রাতে ওই কিশোরীর ঘরে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে ওই তরুণের বিরুদ্ধে। পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানো এবং ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণ ইয়াছিন আরাফাতসহ তার পরিবারের সাত সদস্যের বিরুদ্ধে বাঙ্গরাবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই কিশোরী।
এদিকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে চার লাখ টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি তাদের মুখ বন্ধ রাখতে চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে তরুণী বলেন- ‘আমি টাকা চাই না, ইয়াছিনকে আমার স্বামী হিসেবে চাই’।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিবেশী ইয়াছিন আরাফাতের প্রায় এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এ সম্পর্কের একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইয়াছিন একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সর্বশেষ গত ১৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইয়াছিন ওই কিশোরীর ঘরে গিয়ে আবারও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ সময় বিষয়টি এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি জানতে পারেন। পরে উভয়পক্ষকে ডেকে সামাজিকভাবে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
তবে ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, পরে সালিশে জড়িত ব্যক্তিরা ইয়াছিনকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর পরিবারকে চার লাখ টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং তাদের মুখ বন্ধ রাখতে চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কিশোরী বলেন, ‘আমি টাকা চাই না, ইয়াছিনকে আমার স্বামী হিসেবে চাই।’
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্ত তরুণ বর্তমানে তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচার ও আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি নিজেই বাদী হয়ে ইয়াছিন আরাফাতসহ তার পরিবারের সাত সদস্যের বিরুদ্ধে বাঙ্গরাবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির উপস্থিতিতে অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বাঙ্গরাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল আলম বলেন, আমি ছুটি শেষে আজই ফিরেছি। তাই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
