বুলেট বৈরাগী হত্যা: চার্জশিটে ৫ জন, ৩ আসামি ‘ভাসমান’
Advertisement
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
বুলেট বৈরাগী। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার আলোচিত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনের স্থায়ী ঠিকানা তদন্তে খুঁজে না পাওয়ায় তাদের ‘ভাসমান আসামি’ হিসেবে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশ জানায়, কুমিল্লার বিবির বাজার স্থলবন্দরে কর্মরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী গত ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় নিজের বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন। পরদিন ২৫ এপ্রিল কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন কোটবাড়ী এলাকার আইরিশ হিল হোটেলের পাশ থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আসামিদের স্থায়ী পরিচয় ও বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে পুলিশ বিস্তারিত অনুসন্ধান চালায়। তবে তিন আসামির সঠিক স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি। ফলে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিযোগপত্রে তাদের ভাসমান আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে ওত পেতে থাকত। গভীর রাতে বাস থেকে নামা যাত্রীদের লক্ষ্য করে ছিনতাই ও ডাকাতি করত চক্রটি।
ঘটনার দিন বাস থেকে নামার পর বুলেট বৈরাগীও তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, টাকাপয়সা ও অন্যান্য সামগ্রী কেড়ে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তদন্ত সূত্র জানিয়েছে। পরে তার লাশ মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, চাঞ্চল্যকর বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে চারজন আগেই আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে পাঁচজনই সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সামগ্রী ছিনিয়ে নিতেই সেদিন তাকে শ্বাসরোধ করা হয়। এতে বুলেট বৈরাগীর মৃত্যু হয়।

-6ae0d13d887f7.jpg)