Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

এইচএসসির ফলে বড় ধাক্কা মানিকগঞ্জে, ৪ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাশ করেনি

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

এইচএসসির ফলে বড় ধাক্কা মানিকগঞ্জে, ৪ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাশ করেনি

Advertisement

কোনো কলেজে একজন, কোথাও সাতজন, আবার কোথাও ১৭ জন; কিন্তু ফলাফল সবারই শূন্য। মানিকগঞ্জে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাশ করতে পারেনি।

এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৪ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। এর মধ্যে দুটি কলেজ ও দুটি মাদ্রাসা।

শুধু তাই নয়, জেলার ৪২টি কলেজ ও মাদ্রাসার মধ্যে ৩০টিতেই জোটেনি একটি জিপিএ-৫-ও। সব মিলিয়ে জেলার উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে ফুটে উঠেছে শিক্ষার বেহাল চিত্র।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত জেলাভিত্তিক ফলাফল পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘিওর উপজেলার ড. আবদুর রহিম খান মহিলা কলেজ, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গোলাম মনির হোসেন গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া আলিম মাদ্রাসা এবং সাটুরিয়া উপজেলার দারগ্রাম ফাজিল মাদ্রাসার কোনো পরীক্ষার্থীই পাশ করতে পারেনি।

এর মধ্যে ড. আবদুর রহিম খান মহিলা কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মাত্র একজন। তার ফলও ফেল। গোলাম মনির হোসেন গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাত পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বাঘুটিয়া আলিম মাদ্রাসার নয়জন এবং দারগ্রাম ফাজিল মাদ্রাসার ১৭ পরীক্ষার্থীর ফলও একই। অর্থাৎ চার প্রতিষ্ঠানের ৩৪ পরীক্ষার্থীর কেউই পাশের মুখ দেখেনি। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুধু চার প্রতিষ্ঠানের এমন বিপর্যয়েই সীমাবদ্ধ নয় জেলার সার্বিক ফলাফল। সাত উপজেলার ৩৫টি কলেজ ও সাতটি মাদ্রাসা থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ১০ হাজার ৩৯৪ জন। তাদের মধ্যে পাশ করেছে মাত্র ৩ হাজার ৯৬৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৬ হাজার ৪২৯ জন। সম্মিলিত পাশের হার ৩৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জনেরও বেশি ফেল করেছে।

উপজেলাভিত্তিক ফলাফলেও হতাশার চিত্র স্পষ্ট। সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে দৌলতপুর উপজেলা। এখানকার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৫০৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে মাত্র ৭৮ জন। পাশের হার ১৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ উপজেলার কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পায়নি।

অন্যদিকে সাত উপজেলার মধ্যে তুলনামূলক ভালো ফল করেছে ঘিওর উপজেলা। এখানকার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে পাশের হার ৫৫ দশমিক ১১ শতাংশ, যা জেলার সর্বোচ্চ। তবে সর্বোচ্চ পাশের হার নিয়েও স্বস্তির জায়গা নেই। কারণ এ উপজেলাতেও ৩১৬ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।

জেলার ৪২টি কলেজ ও মাদ্রাসার মধ্যে মাত্র ১২টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সব মিলিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৯ জন। এর মধ্যে শুধু মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই এসেছে ৭৫টি। বিপরীতে দৌলতপুর উপজেলার ঝুলিতে নেই একটিও জিপিএ-৫।

সব মিলিয়ে জেলার উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলে একদিকে চার প্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্য, অন্যদিকে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫-শূন্যের চিত্র সামনে এসেছে। বিশেষ করে দৌলতপুরের ১৫ শতাংশের সামান্য বেশি পাশের হার এবং জেলার সার্বিক ৩৮ দশমিক ১৪ শতাংশ পাশের হার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান ও শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

পাশের হারে সরকারি কলেজকে টেক্কা মুন্নু-কানিজ ফাতিমার, সদরে ফল বিপর্যয়

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোর মধ্যে দেখা গেছে বিস্তর বৈষম্য। পাশের হারে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে বেসরকারি মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কানিজ ফাতিমা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

অন্যদিকে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার নেমেছে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ১০ শতাংশের নিচে পাশের হার, আবার একটি প্রতিষ্ঠানের একজন পরীক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এতে উপজেলার শিক্ষার মান, পাঠদান ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৩৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৩৭ জন। পাশের হার ৯৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে কানিজ ফাতিমা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৬৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬২ জন। পাশের হার ৮৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে মোট ১ হাজার ৮৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১ হাজার ১৯১ জন। কলেজটিতে পাশের হার ৬৬.২৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে মোট ১ হাজার ৬০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৫৮২ জন। এ কলেজে পাশের হার ৩৬.৯৩ শতাংশ।

ফলাফলে দেখা যায়, পাশের হারের দিক থেকে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ এগিয়ে রয়েছে। কলেজ দুটির পাশের হারের ব্যবধান ২৯.৩১ শতাংশ।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

মাকে চিরকুট লিখে এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

মাকে চিরকুট লিখে এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ক্যাম্পাস-শিক্ষক নেই, অস্তিত্বহীন কলেজের ৫ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল

ক্যাম্পাস-শিক্ষক নেই, অস্তিত্বহীন কলেজের ৫ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল

বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে ৫২ বছরে এইচএসসি পাশ শেফালীর

বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে ৫২ বছরে এইচএসসি পাশ শেফালীর

এক শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১২ শিক্ষক, তবুও ফেল

এইচএসসি ফলাফল এক শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১২ শিক্ষক, তবুও ফেল

বাবার বেকারত্ব, মায়ের সংগ্রাম—জিপিএ-৫ পেয়ে চমকে দিল যমজ বোন

বাবার বেকারত্ব, মায়ের সংগ্রাম—জিপিএ-৫ পেয়ে চমকে দিল যমজ বোন

এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন

এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন

আরও পড়ুন

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যাচেষ্টা, চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে প্রতিমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিলেন

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যাচেষ্টা, চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে প্রতিমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিলেন

দক্ষ যুবসমাজই আগামীর নেতৃত্ব দেবে: এমপি আব্দুল্লাহ

দক্ষ যুবসমাজই আগামীর নেতৃত্ব দেবে: এমপি আব্দুল্লাহ

লালপুরে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, পাশশূন্য ৪ প্রতিষ্ঠানে

লালপুরে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, পাশশূন্য ৪ প্রতিষ্ঠানে

অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ

অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম