সারের সংকট নেই, অনিয়ম হলে ডিলারের লাইসেন্স বাতিল: কৃষিমন্ত্রী
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সারের সংকট ছিল না, এখনো সংকট নেই, আগামীতেও সংকট হওয়ার ০.১ শতাংশ সম্ভাবনাও নেই। এখানে কিছু শস্যের চাষ বেড়ে গেছে। যেমন এখন সব জমিতে ধান রয়েছে, মাত্র কাটা হবে। ধান কাটার পরে অন্য ফসল চাষাবাদে সার প্রয়োজন হবে। তার মানে এখন থেকে আরও ২৫ দিন থেকে এক মাস পর। এখন সার সংকট কেন হবে তা বুঝতে পারছি না। তারপরেও তা জানার চেষ্টা করছি। এই সরকার জনগণের সরকার, এই সরকার কৃষকের সরকার, সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য কৃষিকে স্বাবলম্বী করা, উৎপাদন বাড়ানো ও রফতানিমুখী করা।
তিনি আরও বলেন, সারের যত প্রয়োজন হবে, ততই দেওয়া হবে। এর মধ্যে নতুন সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই মাসের জন্য গত মাসে যা দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে এক হাজার ৫০০ টন করে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হবে। এমনটা হলে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। আর অনিয়ম হলে ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবুডাইং এলাকায় একটি আমবাগান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, সারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাপ্লাই চেইনকেও আমরা বাড়াতে চাই। এখানে প্রতি ইউনিয়নে দুজন করে সার ডিলার ছিল, এখন তিনজন করা হয়েছে। যেন চাহিদা অনুযায়ী কৃষকরা সহজেই সার পেতে পারে। নীতিমালার বাইরে কোনো সার ডিলারের লাইসেন্স হলে সরকার সেই বিষয়ে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেবে। লাইসেন্সের ভেতরে একটি শর্ত দেওয়া আছে, ৯০ দিন পর্যন্ত কোনোরকম অভিযোগ যদি আসে এবং তা যদি প্রমাণ হয়, তাহলে লাইসেন্স বাতিলও হয়ে যেতে পারে।
ডিলার নিয়োগ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, সারের ডিলার নিয়োগের জন্য নীতিমালা করা হয়েছে। সেখানে কতগুলো শর্ত দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ করে ডিলারের জন্য আবেদন করেছিলেন অনেকেই। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি ও তার আগে উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি শর্তগুলো পূরণসাপেক্ষে নাম সুপারিশ করেছে। এরপর তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তিনজন থেকে প্রথমজনকে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হয়েছে। কমিটির সব সদস্যের যৌথ সিদ্ধান্তে মন্ত্রণালয়ে তালিকা গেছে। এরপরেও যদি কোনো ভুলভ্রান্তি থাকে কিংবা নীতিমালাবহির্ভূত কিছু হয়, তাহলে তা টিকবে না।
পরে মন্ত্রী স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় টমেটো চাষাবাদের একটি জমি পরিদর্শন করেন। এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
