বদলে যাচ্ছে ডায়াবেটিসের চিকিৎসার পদ্ধতি
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বর্ষা মানেই নানা রোগভোগের ঝুঁকি, বিশেষ করে সংক্রামক রোগ ও ভাইরাসঘটিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। একই সঙ্গে বাড়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও। বৃষ্টির কারণে দৈনন্দিন রুটিন বদলে যাওয়া, বাইরে বেরোনো কিংবা শরীরচর্চা কমে যাওয়া, খাবারের সময়ের পরিবর্তন, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং সংক্রমণের ঝুঁকি— সবই রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে এ সময়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আরও সচেতন থাকা জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ডায়াবেটিস চিকিৎসার প্রচলিত পদ্ধতি বদলে যাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে— কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং (সিজিএম) প্রযুক্তির আবির্ভাব, যা রক্তে শর্করার মাত্রা ট্র্যাকিংয়ের প্রক্রিয়াকে প্রতিক্রিয়াশীল থেকে প্রোঅ্যাকটিভ বা দূরদর্শী পদ্ধতিতে রূপান্তর করেছে। এর আগে যেখানে রোগীকে দিনে কয়েকবার আঙুল ফুটিয়ে গ্লুকোজের মাত্রা মাপতে হতো, সেখানে সিজিএম শরীরের চামড়ার নিচে লাগানো একটি ছোট সেন্সরের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা রিয়েল-টাইমে গ্লুকোজের ওঠানামা ট্র্যাক করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে শরীরের গ্লুকোজের ওঠানামা সবসময় সহজে বোঝা যায় না। দিনে একবার বা নির্দিষ্ট সময়ে গ্লুকোজ মাপলে সেই মুহূর্তের রক্তে শর্করার মাত্রা জানা যায় ঠিকই, কিন্তু খাবার, শরীরচর্চা, মানসিক চাপ বা অসুস্থতার পর তা কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তার সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না।
এ জায়গায় সিজিএম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আপনার শরীরে লাগানো সেন্সরের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি দিনের বিভিন্ন সময়ে নিয়মিত গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করে। ফলে শুধু বর্তমান গ্লুকোজ কত, তা নয়— তা বাড়ছে নাকি কমছে, সেই প্রবণতাও বোঝা যায়। কিছু সিজিএম ব্যবস্থায় গ্লুকোজ অতিরিক্ত বেড়ে বা কমে গেলে সতর্কবার্তাও পাওয়া যায়।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে, শুধু নির্দিষ্ট সময়ের গ্লুকোজ রিপোর্টের ওপর নির্ভর করলে আর চলে না। সারাদিনের গ্লুকোজের প্যাটার্ন বোঝাটাও জরুরি হয়ে ওঠে। সেই তথ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা তৈরি করতেও সহায়ক হতে পারে।
ডিজিটাল হেলথ টুলের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং তথ্যনির্ভর হয়ে উঠছে। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জীবনযাপন, দৈনন্দিন অভ্যাস এবং শারীরিক পরিস্থিতি অনুযায়ী ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা করতেও এ প্রযুক্তি সাহায্য করতে পারে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্লুকোজসংক্রান্ত তথ্য আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। নিরাপদ উপায়ে চিকিৎসকের সঙ্গে এই তথ্য শেয়ার করা গেলে অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাঝের সময়েও রক্তে শর্করার ওঠানামার প্রবণতা সম্পর্কে চিকিৎসক আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য বা কেয়ারগিভারের সঙ্গেও এই তথ্য শেয়ার করা যায়। ফলে রোগীর গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চিকিৎসক, রোগী এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কেয়ারগিভারের মধ্যে আরও অর্থবহ আলোচনা সম্ভব হয়।
খাবার, শরীরচর্চা, ঘুম বা অন্যান্য দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গে গ্লুকোজের পরিবর্তনের সম্পর্কে ব্যক্তি আরও সচেতন হতে পারেন। এ তথ্য ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্টে নিজের অভ্যাসের প্রভাব বুঝতে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করতে সহায়ক হতে পারে। দীর্ঘসময় শরীরে ব্যবহারযোগ্য সেন্সর, রিয়েল-টাইম গ্লুকোজ মনিটরিং এবং গ্লুকোজের মাত্রা খুব বেড়ে বা কমে গেলে ঐচ্ছিক সতর্কবার্তার মতো প্রযুক্তির উন্নতি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকে দৈনন্দিন জীবনের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে শুধু নির্দিষ্ট সময়ে গ্লুকোজের মাত্রা জানাই নয়, সারাদিনে তা কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, সেই প্রবণতাও বোঝা যায়।
