অনুমোদন পেল থাইরয়েডজনিত চোখের রোগের ওষুধ, ঘরে বসেই চিকিৎসা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
থাইরয়েডজনিত চোখের রোগের (টিইডি) চিকিৎসায় নতুন ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। রোশে ও জেনেনটেকের তৈরি ‘এনস্প্রিং’ (স্যাট্রালিজুম্যাব-এমডব্লিউজিই) নামের ওষুধটি প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জন্য অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে রোগীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়িতে বসেই ত্বকের নিচে ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধটি প্রয়োগ করতে পারবেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইরয়েডজনিত চোখের রোগের চিকিৎসায় বাড়িতে ব্যবহারের জন্য ত্বকের নিচে প্রয়োগযোগ্য এটিই প্রথম অনুমোদিত চিকিৎসা। রোগী নিজে অথবা প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারী প্রতি চার সপ্তাহে একবার করে ওষুধটির রক্ষণাবেক্ষণ ডোজ দিতে পারবেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধটির অনুমোদনের পেছনে তৃতীয় পর্যায়ের দুটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ফল রয়েছে। তবে পরীক্ষাগুলোর ফল একরকম ছিল না। ‘স্যাট্রাগো-১’ পরীক্ষায় মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি, অন্যদিকে ‘স্যাট্রাগো-২’ পরীক্ষায় তা অর্জিত হয়েছে। ১৯টি দেশের মোট ২৫৮ জন রোগীকে নিয়ে পরীক্ষা দুটি পরিচালিত হয়।
‘স্যাট্রাগো-২’ পরীক্ষায় সক্রিয় থাইরয়েডজনিত চোখের রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ২৪ সপ্তাহ পর এনস্প্রিং গ্রহণকারীদের ৫২ দশমিক ৯ শতাংশের চোখের সামনের দিকে বেরিয়ে আসার মাত্রা অন্তত ২ মিলিমিটার কমে। প্লাসিবো বা ওষুধবিহীন তুলনামূলক চিকিৎসা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
এ ছাড়া এনস্প্রিং গ্রহণকারীদের ৬০ দশমিক ৭ শতাংশের দ্বৈতদৃষ্টি বা একই বস্তু দুটি দেখার সমস্যার উন্নতি হয়। প্লাসিবো গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ। দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করে করা সামগ্রিক বিশ্লেষণেও একই ধরনের ফল পাওয়ার কথা জানিয়েছে জেনেনটেক।
জাপানভিত্তিক চুগাই ফার্মাসিউটিক্যাল তৈরি করেছে এনস্প্রিং, যা রোশে গ্রুপের সদস্য। ওষুধটি শরীরের ইন্টারলিউকিন-৬ (আইএল-৬) রিসেপ্টরের সংকেতপ্রবাহে বাধা দেয়। এই প্রক্রিয়া অটোইমিউন প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
এর আগে ২০২০ সালে নিউরোমায়েলাইটিস অপটিকা স্পেকট্রাম ডিজিজ (এনএমওএসডি) চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। নতুন অনুমোদনের ফলে ওষুধটির ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরেকটি রোগ যুক্ত হলো। পাশাপাশি হাসপাতালে শিরায় ইনফিউশনের মাধ্যমে দেওয়া চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

