Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

চাপের মুখেও নৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি খামেনি: সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

চাপের মুখেও নৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি খামেনি: সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক

ফাইল ছবি।

Advertisement

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি অস্তিত্বের সংকট ও তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও নৈতিকতা ও আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও লেখক ক্রেইগ মারে। 

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলের আধিপত্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে অনাগ্রহের কারণে খামেনি বিশ্বে নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রেইগ মারে বলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি তার অবিচল অঙ্গীকার। কঠোর নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধের হুমকি এবং বহিরাগত চাপের মধ্যেও তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

মারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল—উভয়ই পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইরান চাইলে সহজেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারত। কিন্তু আয়াতুল্লাহ খামেনির বিশ্বাস ছিল, এমন অস্ত্র তৈরি করা নৈতিকভাবে সঠিক নয়। তার এই অবস্থানকে তিনি খামেনির ব্যক্তিত্বের প্রতি একটি বড় শ্রদ্ধার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

সাবেক এই কূটনীতিক আরও দাবি করেন, যুদ্ধের সময় ইরান কখনও স্কুল, হাসপাতাল বা সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করেনি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আচরণের সঙ্গে এর পার্থক্য স্পষ্ট এবং এ ক্ষেত্রে খামেনির নৈতিক শিক্ষার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

ক্রেইগ মারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যবাদ এবং ইসরাইলের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কেন্দ্র হিসেবে ইরান বিশ্বজুড়ে অনেক মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা এবং ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরোধিতায় ইরান, ইয়েমেন ও লেবাননের মিত্রদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

খামেনির সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে মারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলার সময় ইরানি জনগণের যে ঐক্য ও সংহতি দেখা গেছে, সেটিই তার নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় অর্জনের প্রমাণ।

তিনি পশ্চিমা বিশ্বে ইরান সম্পর্কে প্রচলিত ধারণারও সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, ইরান একটি সাংস্কৃতিক ও জাতিগতভাবে বৈচিত্র্যময় দেশ, যেখানে ইহুদি ও খ্রিস্টান সংখ্যালঘুরাও স্বাধীনভাবে বসবাস করেন। কিন্তু পশ্চিমা গণমাধ্যমে এই বাস্তবতা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয় না।

খামেনির রাজনৈতিক দর্শন তার মৃত্যুর পর দুর্বল হয়ে পড়বে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মারে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করেছে যে কোনো ধারণা বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে হত্যা করা যায় না। তিনি বলেন, গাজা, দক্ষিণ লেবানন এবং ইরানের ঘটনাবলি দেখিয়েছে যে বিশ্বাস ও আদর্শ মানুষের প্রতিরোধকে টিকিয়ে রাখে।

তিনি আরও বলেন, একজন মহান নেতার মৃত্যু অবশ্যই গভীর শোকের বিষয়। তবে একজন নেতার প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তার জীবন, আদর্শ ও রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারের মাধ্যমে।

সূত্র: প্রেস টিভি

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

দুর্যোগমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

দুর্যোগমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি বৈঠক

ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি বৈঠক

বাংলাদেশে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে আগ্রহ, যা বললেন মাহদী আমিন

বাংলাদেশে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে আগ্রহ, যা বললেন মাহদী আমিন

খামেনির হত্যাকাণ্ডের পরও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চায় ইরান

পেজেশকিয়ান খামেনির হত্যাকাণ্ডের পরও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চায় ইরান

২৯৬ শিক্ষার্থী নিহতের পর ছাত্রদের প্রতি যে আহ্বান খামেনির

২৯৬ শিক্ষার্থী নিহতের পর ছাত্রদের প্রতি যে আহ্বান খামেনির

বাংলাদেশকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করল ইসরাইল

বাংলাদেশকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করল ইসরাইল

আরও পড়ুন

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ল

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ল

একসঙ্গে জন্মদিন পালন করলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক দুই ব্যক্তি

একসঙ্গে জন্মদিন পালন করলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক দুই ব্যক্তি

বাংলাদেশ-নেপালের মতো অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

বাংলাদেশ-নেপালের মতো অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

সিইসি জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিন বিক্ষোভ দিল্লিতে

সিইসি জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিন বিক্ষোভ দিল্লিতে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম