Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বিশ্লেষণ

ছাত্র আন্দোলনের জেরে বিহার ও মধ্যপ্রদেশে মুখ থুবড়ে পড়ল বিজেপি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

ছাত্র আন্দোলনের জেরে বিহার ও মধ্যপ্রদেশে মুখ থুবড়ে পড়ল বিজেপি

নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের ফলাফলগুলো দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই উপনির্বাচনের ফলাফল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির জন্য স্পষ্টতই বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হলেও, এটিকে বিরোধীদের জন্য সরাসরি কোনো বিরাট সুসংবাদ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। 

উপনির্বাচনের প্রাথমিক প্রবণতাগুলোতে বিজেপির ধাক্কা খাওয়ার স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে বিহারের পাটনা অঞ্চলের বাঁকিপুর বিধানসভা আসন থেকে, যা দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির একটি নিরাপদ ও দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। 

২০০৮ সালে এই আসনটি গঠিত হওয়ার পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসা দলটি এই প্রথম সেখানে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে এই আসনে বিজেপির ভোট পাওয়ার হার সবসময় উনষাট শতাংশের ওপরে থাকলেও, এবারের উপনির্বাচনে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টির প্রার্থী সেখানে শক্ত অবস্থানে এগিয়ে রয়েছেন। 

বাঁকিপুর আসনের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বিজেপির জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই আসনে উচ্চবর্ণের ভোটারদের আধিক্য রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি বিজেপির অনুগত ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল। 

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, শেষ মুহূর্তে প্রার্থীর পরিবর্তন এবং নীতীশ কুমার পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে বিজেপির অন্দরে উচ্চবর্ণের ভোটারদের মধ্যে একধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। উচ্চবর্ণের ভোটাররা এখন বিকল্প কোনো শক্তির সন্ধান করছে, যা বিজেপির দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। 

তবে দলটির জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, এই ভোট ব্যাংকটি সরাসরি তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রীয় জনতা দল বা আরজেডি-র দিকে না ঝুঁকে একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির দিকে গেছে। একইসঙ্গে জাতীয় স্তরে পরীক্ষাসংক্রান্ত জটিলতা এবং তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষের মতো বিষয়গুলোও ভোটারদের মনোভাবের ওপর প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে। 

অন্যদিকে, বিজেপির এই শোচনীয় অবস্থাকে বিরোধীদের জন্য সরাসরি কোনো সুসংবাদ বলতে নারাজ বিশ্লেষকরা। কারণ, বিজেপির ঘাঁটি থেকে ঐতিহ্যবাহী ভোট সরে গেলেও সেই বিকল্প শূন্যতা পূরণে কংগ্রেস বা অন্য প্রধান বিরোধী দলগুলো খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না। 

ফলে এই উপনির্বাচনের ফলাফল কেবল একটি নির্দিষ্ট দলের পতন বা পরাজয় নয়, বরং এটি সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন জটিলতা ও জনমতের ভিন্নমুখী প্রবাহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। 


Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .