অ্যাসাইলাম ইস্যুতে উত্তাল দক্ষিণ আফ্রিকা, ২৪ গাড়িতে আগুন
Advertisement
শরীফ উদ্দিন, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০২ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অ্যাসাইলাম আবেদন গ্রহণ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান, সোয়েটু ও পোর্ট এলিজাবেথে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ডারবান ও সোয়েটুতে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে।
পুলিশের হিসাবে দুই শহরে অন্তত ২৪টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি মালিকানাধীন কয়েকটি দোকানে লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। পোর্ট এলিজাবেথে অ্যাসাইলাম আবেদন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করলে পুলিশ স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
ডারবান
ডারবানের চে গুয়েভারা রোডের রিফিউজি রিসেপশন সেন্টার ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা অ্যাসাইলাম আবেদন গ্রহণ বন্ধের দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং আবেদনকারীদের সরে যেতে বলা হয়। পরে বিক্ষোভ ডারবান সিটি সেন্টারের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের হিসাবে সেখানে অন্তত ১৪টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। বিদেশি মালিকানাধীন কয়েকটি দোকানেও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এক বিক্ষোভকারীকে হামলার অভিযোগে তিন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
সোয়েটু
জোহানেসবার্গের অরল্যান্ডো ওয়েস্ট এলাকায় হোম অ্যাফেয়ার্স অফিস বন্ধের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মিছিল করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েকটি দোকানে লুটপাট এবং যানবাহনে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া যায়। পুলিশের হিসাবে সোয়েটুতে অন্তত ১০টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভের সময় গুলির শব্দ শোনার খবর পাওয়া গেলেও কারা গুলি করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
পোর্ট এলিজাবেথ
পোর্ট এলিজাবেথের গকেবেরহা এলাকায় হোম অ্যাফেয়ার্সের রিফিউজি অফিসে শত শত অ্যাসাইলামপ্রার্থী অস্থায়ী পারমিটের জন্য জড়ো হন। তাদের আবেদন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে প্রায় ৩০ বিক্ষোভকারী সেখানে জড়ো হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা আবেদনকারীদের সরে যেতে বললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার পটভূমি
জুলাইয়ে সাংবিধানিক আদালতের দেওয়া রায়ের পর হোম অ্যাফেয়ার্স নতুন আবেদনকারীদের জন্য অ্যাসাইলাম ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ পুনরায় চালু করে। এর আগে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াগত শর্ত পূরণ না করা অনেক ব্যক্তি অ্যাসাইলাম ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছিলেন না। আদালতের রায়ের পর সেই বাধা দূর হওয়ায় নতুন আবেদনকারীদের চাপ বেড়ে যায় এবং বিভিন্ন রিফিউজি রিসেপশন অফিসে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
সরকারের অবস্থান
সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, অ্যাসাইলাম আবেদন করার সুযোগ পাওয়া মানেই কাউকে শরণার্থী মর্যাদা বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার দেওয়া নয়। প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে যাচাই করে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আদালতের রায়ের অর্থ অবৈধ অভিবাসন বৈধ হয়ে যাওয়া নয় বলেও সরকার জানিয়েছে।
বিক্ষোভের প্রভাবে ডারবান ও সোয়েটুর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং হোম অ্যাফেয়ার্সের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও পাবলিক-অর্ডার ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

