Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

‘এখনই সময় দিল্লিকে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো করে তোলার’

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

‘এখনই সময় দিল্লিকে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো করে তোলার’

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ভারতে জাতীয় রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে তরুণ ও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়ন ও ধরপাকড়ের ঘটনা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছে। 

নয়াদিল্লির কনট্যুর প্লেস এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতার কাজ করা ২৯ বছর বয়সি তরুণ সন্তোষ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে রাস্তায় তরুণদের ওপর পুলিশি বাধা ও নির্বিচার আটক দেখার পর তার ধৈর্য সীমা ছাড়িয়েছে। বর্তমান সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক আচরণের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, মোদি সরকারের ভূমিকা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের চেয়েও বেশি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপাল এবং বাংলাদেশে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল। ওই আন্দোলনগুলোর প্রবল চাপে দুই দেশেরই অজনপ্রিয় সরকারগুলো ক্ষমতা ছেড়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। প্রতিবেশী দেশগুলোর সেই সফল আন্দোলনের উদাহরণ টেনে ভারতীয়দেরও একইভাবে রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তরুণদের ওপর সরকারের দমনপীড়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সন্তোষ উল্লেখ করেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এভাবে আন্দোলন থামিয়ে রাখতে পারবে না। পুলিশ যদি রাস্তা থেকে ১০ জনকে আটক করে, তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে আরও ৫০ জন তরুন যোগ দিচ্ছে। জনগণের এই প্রতিরোধকে তিনি স্বৈরাচারী মানসিকতার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া এক স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলতে গিয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে দাবি করেছেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বৈরাচারী মনোভাবের সময় এখন শেষ হয়ে এসেছে। আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত এই সরকার টিকবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যেভাবে বাড়ছে, তাতে পরিবর্তন খুব বেশি দূরে নয় বলেই তিনি মনে করেন।

আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সন্তোষ আরও বলেন, এখনই সময় দিল্লিকে নেপাল ও বাংলাদেশের রূপ দেওয়ার। ওই দুটি দেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতীয়দের নিজেদের অধিকার এবং দেশ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো এখানেও জনগণের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও ঐক্যই পারে অন্যায় শাসনের অবসান ঘটাতে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপাল ও বাংলাদেশে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক আন্দোলন পুরো অঞ্চলের রাজনীতিতেই ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। ওই দুটি দেশে প্রবল গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন অপ্রিয় সরকারগুলো পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। নয়াদিল্লির বিক্ষুব্ধ নাগরিকরা এখন প্রতিবেশী অঞ্চলের সেই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক দাবি আদায়ে সোচ্চার হওয়ার কথা বলছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা।


Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

দিল্লিতে মমতা-কেজরিওয়ালসহ চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আটক

দিল্লিতে মমতা-কেজরিওয়ালসহ চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আটক

আমি আটক হলেও আন্দোলন থমকে নেই, বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা

আমি আটক হলেও আন্দোলন থমকে নেই, বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা

দায়িত্ব নিয়েই কড়া যে বার্তা দিলেন ককরোচ পার্টির নতুন নেতা

দায়িত্ব নিয়েই কড়া যে বার্তা দিলেন ককরোচ পার্টির নতুন নেতা

আপনি এত ভয় পাচ্ছেন কেন? —মমতাকে আটকের পর মোদিকে তোপ তৃণমূলের

আপনি এত ভয় পাচ্ছেন কেন? —মমতাকে আটকের পর মোদিকে তোপ তৃণমূলের

গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করছে মোদি সরকার: খাড়গে

গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করছে মোদি সরকার: খাড়গে

দিল্লিতে আটক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল

দিল্লিতে আটক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল

আরও পড়ুন

দিল্লিতে মমতা-কেজরিওয়ালসহ চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আটক

দিল্লিতে মমতা-কেজরিওয়ালসহ চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আটক

আমি আটক হলেও আন্দোলন থমকে নেই, বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা

আমি আটক হলেও আন্দোলন থমকে নেই, বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা

আটক হওয়ার আগেই অজিঙ্কা শিন্ডেকে আন্দোলনের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন অভিজিৎ, কে এই যুবক?

আটক হওয়ার আগেই অজিঙ্কা শিন্ডেকে আন্দোলনের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন অভিজিৎ, কে এই যুবক?

দায়িত্ব নিয়েই কড়া যে বার্তা দিলেন ককরোচ পার্টির নতুন নেতা

দায়িত্ব নিয়েই কড়া যে বার্তা দিলেন ককরোচ পার্টির নতুন নেতা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম