যেসব কাজ করলে ব্যবসার বরকত নষ্ট হয়
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
ইসলামে জীবিকা অর্জনের অন্যতম সম্মানজনক ও পবিত্র মাধ্যম হলো ব্যবসা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামে জীবিকা অর্জনের অন্যতম সম্মানজনক ও পবিত্র মাধ্যম হলো ব্যবসা। পবিত্র আল-কুরআন এবং হাদিসের নির্দেশনা মেনে পরিচালিত ব্যবসায় আল্লাহ তাআলা বরকত দান করেন। সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ীর মর্যাদা এতটাই উচ্চ যে প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন—
التَّاجِرُ الصَّدُوقُ الأَمِينُ مَعَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ
‘সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ী কেয়ামতের দিন নবী, সত্যবাদী ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে।’ (তিরমিজি ১২০৯)
অন্যদিকে, শরিয়তবিরোধী পন্থায় পরিচালিত ব্যবসা সাময়িক লাভ আনলেও তা থেকে বরকত উঠে যায় এবং আখেরাতে কঠিন জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়। নিচে এমন কিছু কাজ তুলে ধরা হলো, যা করলে ব্যবসার বরকত নষ্ট হয়ে যায়। তাহলো—
১. মাপে কম দেওয়া
মাপে কম দেওয়া একটি মারাত্মক অন্যায়, যার বিরুদ্ধে কুরআনে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَيْلٌ لِّلْمُطَفِّفِينَ الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ وَإِذَا كَالُوهُمْ أَو وَّزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ أَلَا يَظُنُّ أُولَٰئِكَ أَنَّهُم مَّبْعُوثُونَ لِيَوْمٍ عَظِيمٍ يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ
‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকদের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে, আর যখন তাদেরকে মেপে দেয় তথবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়। তারা কি মনে করে না যে, তাদের পুনরুত্থিত করা হবে এক মহান দিবসে? যেদিন দাঁড়াবে সমস্ত মানুষ সৃষ্টিকুলের রবের সামনে!’ (সুরা মুতাফফিফিন: আয়াত ১–৬)
২. পণ্যের মান নিয়ে প্রতারণা
ভালো পণ্যের সঙ্গে নিম্নমানের পণ্য মিশিয়ে দেওয়া বা গুণাগুণ গোপন করে প্রতারণা করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنَّا
‘যে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (আবু দাউদ ৩৪৫২)
৩. মিথ্যা শপথ করা
পণ্য বিক্রির জন্য মিথ্যা কসম করা বড় গুনাহ। হাদিসে পাকে এসেছে—
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ... الْمُنَفِّقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ
‘তিন শ্রেণির লোকের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলবেন না… তাদের একজন হলো যে মিথ্যা শপথ করে পণ্য বিক্রি করে।’ (নাসাঈ ৫৩৩৩)
৪. ত্রুটি গোপন করে পণ্য বিক্রি
দোষ বা ত্রুটি লুকিয়ে পণ্য বিক্রি করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ... وَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ بَاعَ مِنْ أَخِيهِ بَيْعًا فِيهِ عَيْبٌ إِلَّا بَيَّنَهُ لَهُ
‘মুসলমান মুসলমানের ভাই… কোনো মুসলমানের জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের কাছে ত্রুটিযুক্ত পণ্য বিক্রি করবে অথচ তা জানাবে না।’ (ইবনে মাজাহ ২২৪৬)
৫. ঋণ পরিশোধে গড়িমসি
সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধে বিলম্ব করা জুলুম। হাদিসে পাকে এসেছে—
مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ
‘ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম।’ (বুখারি ২২৮৭)
৬. সুদি লেনদেন
সুদ ব্যবসার বরকত ধ্বংস করে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ
‘আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করেন এবং সদকাকে বৃদ্ধি করেন।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৭৬)
৭. অবৈধ মজুদদারি
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত লাভের চেষ্টা ইসলামে নিষিদ্ধ। হাদিসে পাকে এসেছে—
مَنِ احْتَكَرَ فَهُوَ خَاطِئٌ
‘যে ব্যক্তি মজুদদারি করে, সে গুনাহগার।’ (ইবনে মাজাহ ২১৫৫)
৮. দালালি ও অনৈতিক প্রতিযোগিতা
অন্যের লেনদেনে হস্তক্ষেপ বা কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো নিষিদ্ধ। হাদিসে পাকে এসেছে—
لَا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ
‘তোমাদের কেউ যেন অন্যের ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর ক্রয়-বিক্রয় না করে।’ (বুখারি ২১৪০)
وَلَا تَنَاجَشُوا
‘তোমরা কৃত্রিমভাবে দর (মূল্য) বাড়িও না (প্রতারণার উদ্দেশ্যে)।’ (তিরমিজি ১৩০৪)
রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। অনৈতিক উপায়ে অর্জিত সম্পদ কখনোই প্রকৃত কল্যাণ বয়ে আনে না; বরং বরকত নষ্ট করে দেয় এবং আখেরাতে কঠিন হিসাবের কারণ হয়। তাই ইহকালীন সফলতা ও পরকালীন মুক্তির জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও ইসলামের নির্দেশনা মেনে চলা অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল উপায়ে বরকতময় রিজিক অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমিন।

