Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

রাসুল (সা.) বারবার ওমরাহ করতে কেন উৎসাহ দিয়েছেন?

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

রাসুল (সা.) বারবার ওমরাহ করতে কেন উৎসাহ দিয়েছেন?

আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সফর— ওমরাহ। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে পবিত্র কাবাঘর জিয়ারতের এক গভীর আকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে থাকে। আল্লাহর ঘরকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ, ইহরামের পবিত্র আবহ এবং ইবাদতে নিমগ্ন প্রতিটি মুহূর্ত একজন বান্দাকে দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে মুক্ত করে রবের আরও কাছে নিয়ে যায়। এ কারণেই ওমরা শুধু একটি সফর নয়; এটি তওবা, আত্মশুদ্ধি, গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং অন্তরের প্রশান্তি অর্জনের এক মহিমান্বিত ইবাদত।

হজের নির্ধারিত সময়ের বাইরে বছরের যেকোনো সময় ওমরাহ আদায় করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) একাধিক হাদিসে ওমরার অসংখ্য ফজিলত, গুনাহ মাফের সুসংবাদ এবং আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের কথা তুলে ধরেছেন। তাই সামর্থ্যবান একজন মুসলমানের জন্য ওমরাহ হতে পারে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করার এক অনন্য সুযোগ।

ওমরা গুনাহ মোচনের অন্যতম মাধ্যম

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الْجَنَّةُ

‘এক ওমরাহ থেকে আরেক ওমরাহ পর্যন্ত সময়ের (সগিরা) গুনাহের জন্য কাফফারা হয়ে যায়। আর কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।’ (বুখারি ১৭৭৩, মুসলিম ১৩৪৯)

এই হাদিসে ওমরার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তরিকতা, ইখলাস এবং সুন্নাহ অনুযায়ী আদায় করা ওমরাহ বান্দাকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এবং গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ এনে দেয়।

রমজানে ওমরার বিশেষ মর্যাদা

রমজান মাসে ওমরা আদায়ের ফজিলত অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক নারীকে বলেছিলেন—

فَإِنَّ عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً

‘রমজান এলে তখন ওমরাহ করে নিও। কেননা রমজানের একটি ওমরা একটি হজের সমতুল্য।’ (বুখারি ১৭৮২, মুসলিম ১২৫৬)

তবে এর অর্থ এই নয় যে, ফরজ হজের দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে। বরং সওয়াবের দিক থেকে রমজানের ওমরাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করার মাধ্যম

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ، فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ، كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ

‘তোমরা ধারাবাহিকভাবে হজ ও ওমরাহ আদায় কর। কেননা এ দুটি আমল দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে দেয়, যেমন হাপরের আগুন লোহা, সোনা ও রুপার ময়লা দূর করে।’ (তিরমিজি ৮১০, নাসাঈ ২৬৩১)

নারীদের জন্যও ওমরার বিশেষ মর্যাদা

ইসলামে নারীদের জন্যও হজ ও ওমরার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম—

يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلْ عَلَى النِّسَاءِ جِهَادٌ؟ قَالَ: نَعَمْ، عَلَيْهِنَّ جِهَادٌ لَا قِتَالَ فِيهِ: الْحَجُّ وَالْعُمْرَةُ

‘হে আল্লাহর রাসুল! নারীদের জন্যও কি জিহাদ রয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাদের জন্য এমন জিহাদ রয়েছে, যাতে যুদ্ধ নেই। তা হলো হজ ও ওমরাহ।’ (ইবনে মাজাহ ২৯০১)

এই হাদিস নারীদের জন্য হজ ও ওমরার বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

হজ ও ওমরাকারীরা আল্লাহর মেহমান

রাসুলুল্লাহ (সা.) হজ ও ওমরা পালনকারীদের আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

الْغَازِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَالْحَاجُّ، وَالْمُعْتَمِرُ وَفْدُ اللَّهِ، دَعَاهُمْ فَأَجَابُوهُ، وَسَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ

‘আল্লাহর পথে যুদ্ধকারী, হজকারী ও ওমরাকারী আল্লাহর মেহমান। আল্লাহ তাদের আহ্বান করেছেন, তারা তার ডাকে সাড়া দিয়েছেন। তারা তার কাছে প্রার্থনা করেছেন, আর তিনি তাদের তা দান করেছেন।’ (ইবনে মাজাহ ২৮৯৩)

ওমরার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মৃত্যু হলেও রয়েছে সুসংবাদ

হজ বা ওমরার উদ্দেশ্যে বের হওয়া ব্যক্তির জন্যও রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ خَرَجَ حَاجًّا فَمَاتَ، كُتِبَ لَهُ أَجْرُ الْحَاجِّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ خَرَجَ مُعْتَمِرًا فَمَاتَ، كُتِبَ لَهُ أَجْرُ الْمُعْتَمِرِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ

‘যে ব্যক্তি হজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মৃত্যুবরণ করে, তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত হজের সওয়াব লেখা হতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি ওমরার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মৃত্যুবরণ করে, তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত ওমরার সওয়াব লেখা হতে থাকবে।’ (সহিহুত তারগিব ওয়াত তারহিব ১১১৪)

আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সফর

ওমরাহ একজন মুমিনের হৃদয়কে বিনয়, ধৈর্য, তাকওয়া এবং আল্লাহর স্মরণে পরিপূর্ণ করে তোলে। ইহরামের মাধ্যমে ধনী-গরিব, শাসক-প্রজা, সাদা-কালো—সবাই একই পোশাকে এক কাতারে দাঁড়ায়। এতে ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার অপূর্ব শিক্ষা ফুটে ওঠে।

এই পবিত্র সফর একজন মুসলমানকে তওবা, আত্মশুদ্ধি, গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে এগিয়ে দেয়।

ওমরাহ শুধু কাবাঘর জিয়ারতের নাম নয়; এটি একজন বান্দার অন্তরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার এক বরকতময় সফর। এ ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ নিজের অতীত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, নতুনভাবে জীবন গড়ার অঙ্গীকার করে এবং আল্লাহর রহমতের ছায়ায় আশ্রয় লাভের আশা করে।

তাই যাদের আল্লাহ তাআলা সামর্থ্য দিয়েছেন, তাদের উচিত সুযোগ পেলে এই মহান ইবাদত আদায়ে আন্তরিক হওয়া। আর যারা এখনো সেই সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেননি, তারা আল্লাহর কাছে বারবার দোয়া করুন— তিনি যেন তার পবিত্র ঘর জিয়ারত, তাওয়াফ এবং ওমরার সৌভাগ্য নসিব করেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বারবার তার পবিত্র ঘর জিয়ারতের তাওফিক দান করুন, আমাদের ওমরা কবুল করুন এবং এই ইবাদতের মাধ্যমে আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমিন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

দরুদ শরিফ পড়ার গুরুত্বপূর্ণ সময় ও ফজিলত

দরুদ শরিফ পড়ার গুরুত্বপূর্ণ সময় ও ফজিলত

খাঁটি তওবার সঠিক নিয়ম ও ক্ষমা লাভের গুরুত্বপূর্ণ দোয়া

খাঁটি তওবার সঠিক নিয়ম ও ক্ষমা লাভের গুরুত্বপূর্ণ দোয়া

‘মুহাম্মদ’ নাম রাখার ফজিলত সম্পর্কিত হাদিসগুলো কি সঠিক?

‘মুহাম্মদ’ নাম রাখার ফজিলত সম্পর্কিত হাদিসগুলো কি সঠিক?

ঘরে ঢুকেই সালাম দিলে মিলবে যেসব বকরত ও ফজিলত

ঘরে ঢুকেই সালাম দিলে মিলবে যেসব বকরত ও ফজিলত

অর্থকষ্টে পড়লে যেসব আমল করবেন

অর্থকষ্টে পড়লে যেসব আমল করবেন

মৃত্যুর পরও যেসব কারণে আমলনামায় গুনাহ জমা হতে থাকে

মৃত্যুর পরও যেসব কারণে আমলনামায় গুনাহ জমা হতে থাকে

আরও পড়ুন

নারীরা কি জিন্স বা টাইট প্যান্ট পরতে পারবে? যা বললেন আহমাদুল্লাহ

নারীরা কি জিন্স বা টাইট প্যান্ট পরতে পারবে? যা বললেন আহমাদুল্লাহ

মেসেজে তালাক দিলে কার্যকর হবে?

মেসেজে তালাক দিলে কার্যকর হবে?

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৫ নভেম্বর ২০২৬

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৫ নভেম্বর ২০২৬

শায়খ আহমাদুল্লাহর জিজ্ঞাসা— সমাজ বদলানোর দায়িত্ব নেবেন কে?

শায়খ আহমাদুল্লাহর জিজ্ঞাসা— সমাজ বদলানোর দায়িত্ব নেবেন কে?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম