বিবাহিত জীবনে সাধারণত যেসব বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
ছবি: জেমিনি এআই
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক এক পবিত্র ও বিশ্বাসের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই নতুন যাত্রায় একে অপরের অতীত কতটা জানা উচিত এবং কোন বিষয়গুলো নিয়ে চুপ থাকাই শ্রেয়? বিয়ের আগের কোনো ভুল বা পুরোনো সম্পর্কের কথা কি দাম্পত্য জীবনে বারবার টেনে আনা উচিত? ইসলামের দৃষ্টিতে অতীতের অপ্রয়োজনীয় খোঁচাখুঁচি দাম্পত্য সম্পর্কে যেমন অশান্তি ডেকে আনে, আবার অন্যদিকে বর্তমান জীবনে প্রভাব ফেলে এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গোপন করাও প্রতারণার শামিল।
অতীতের ভুলকে স্থায়ী পরিচয় না দেওয়া
মানুষ মাত্রই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। অতীতে কোনো ভুল হয়ে গেলে এবং কেউ যদি লজ্জিত হয়ে খাঁটি মনে তওবা করে, তবে সেই ভুলকে তার চিরকালীন পরিচয় বানিয়ে দেওয়া ইসলামসম্মত নয়। তওবাকারীর অতীত নিয়ে খোঁচাখুঁচি না করে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে হতাশা দূর করে তওবার আহ্বান জানিয়ে ইরশাদ করেন—
قُلْ يَٰعِبَادِيَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُوا۟ عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا۟ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلُّذُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ
‘বলুন, হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আজ-জুমার: আয়াত ৫৩)
এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন—
كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ، وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ
‘সব মানুষই ভুলকারী (অপরাধী), আর ভুলকারীদের মধ্যে তওবাকারীরাই উত্তম।’ (তিরমিজি ২৪৯৯)
যেসব বিষয়ে চুপ থাকা এবং এড়িয়ে চলা শ্রেয়
ইসলামি অনুশাসন ও গোপনীয়তার নীতি অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্কে কিছু বিষয় অহেতুক টেনে না এনে এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে—
وَلَا تَجَسَّسُوا
‘আর তোমরা একে অপরের গোপনীয়তা অনুসন্ধান কর না।’ (সুরা আল-হুজুরাত: আয়াত ১২)
এই আয়াতের নির্দেশনার আলোকে দাম্পত্য জীবনে সাধারণত যেসব বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত—
- বিয়ের আগের কোনো সম্পর্কের খুঁটিনাটি বা অতীত ইতিহাস জোরপূর্বক জানতে চাওয়া।
- অতীতের কোনো সঙ্গীর সঙ্গে বর্তমান সঙ্গীর তুলনা করা।
- তওবা করা পুরোনো কোনো গুনাহের বিস্তারিত বিবরণ জানতে চাপ প্রয়োগ করা।
- ‘সত্যি বললে কিছু বলব না’ এ ধরনের ফাঁদ পেতে কোনো স্বীকারোক্তি আদায় করা।
- রাগ বা ঝগড়ার সময় পুরোনো ভুলগুলো বারবার তুলে ধরে সঙ্গীকে খোঁটা দেওয়া।
এ ধরনের নেতিবাচক আলোচনা দম্পতির মনে সন্দেহ, হিংসা ও অবিশ্বাসের বীজ বপন করে, যা সুখের সংসারকে মুহূর্তেই অশান্ত করে তুলতে পারে।
গোপনীয়তা বনাম প্রয়োজনীয় সততা
অতীতের ব্যক্তিগত গুনাহ ও অনুতাপ গোপন রাখা এবং বর্তমান দাম্পত্য জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন গুরুতর তথ্য লুকিয়ে রাখা এক বিষয় নয়। কোনো পুরোনো বিষয় যদি বর্তমান বৈবাহিক অধিকার, সুরক্ষা বা দায়িত্বে সরাসরি প্রভাব ফেলে, তবে তা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা প্রতারণার শামিল।
কোন ধরনের তথ্য জানানো আবশ্যক, তা জটিল পরিস্থিতিতে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নিয়ে নির্ধারণ করা উচিত। পাশাপাশি, অতীতে কারও হক বা অধিকার নষ্ট করা হয়ে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়াও তওবার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ক্ষমা মানেই অন্ধ আস্থা নয়
কাউকে ক্ষমা করা মানে এই নয় যে তার অতীতে ঘটে যাওয়া সমস্ত ভুলের ওপর সঙ্গে সঙ্গে অন্ধভাবে পূর্ণ আস্থা স্থাপন করতে হবে। বিশেষ করে পূর্বে কারও আচরণে বড় কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে, কেবল ধারাবাহিক ও সততাপূর্ণ আচরণ এবং দায়িত্বশীলতার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে সেই হারানো আস্থা পুনর্গঠিত হতে পারে।
সংক্ষেপে বলা যায়, ইসলামে মানুষের পুরোনো ভুল নিয়ে অযথা খোঁচাখুঁচি বা খোঁটা দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে বর্তমান দাম্পত্য অধিকার ও নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলে এমন কোনো জরুরি বিষয় অসদুপায়ে গোপন করা যাবে। সুতরাং, অতীতের অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর অনুসন্ধান থেকে বিরত থাকা এবং একই সঙ্গে বর্তমানের প্রতি সৎ ও দায়িত্বশীল থাকা— এটাই হলো সফল ও সুদৃঢ় দাম্পত্য জীবনের মূল চাবিকাঠি।

