বাধ্য হয়ে সুদের কিস্তিতে সাইন করলে কি গুনাহ হবে?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামে সুদ দেওয়া এবং নেওয়া দুটোই হারাম। তবে অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন বাধ্য হয়ে সুদে ঋণ নেওয়া যাবে কিনা। এমন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশি ইসলামি চিন্তাবিদরা।
এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন যখন আমি ৮ মাসের গর্ভবতী সেই সময় আমার স্বামী ও শ্বশুর জমি কিনার কারণে আমাকে দিয়ে কিস্তি তুলে নেয় একটা, এবং আরেকটা কিস্তিতে আমাকে জামিনদার বানায়, আমি এগুলো করতে চায়নি, আমাকে জোর করে তুলে নেয়, সেক্ষেত্রে কি আমি সুদের ভাগিদার হব?
জবাবে বলা হয়েছে, আপনি যেই কিস্তিতে সাইন করেছেন, তা কি সুদের কিস্তি নাকি হালাল কিস্তি তা স্পষ্ট করলে ভালো হতো। যদি সুদের কিস্তি হয়, তাহলে কোনো ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় নয়, বরং বাধ্য হয়ে বা জবরদস্তির শিকার হয়ে কোনো নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয়, তবে তার ওপর সেই পাপের দায় বর্তায় না। সুদ গ্রহণ করা, সুদের চুক্তি লেখা বা সুদের জামিনদার হওয়া নিঃসন্দেহে মারাত্মক কবিরা গুনাহ। তবে আপনার ক্ষেত্রে আপনার সম্পূর্ণ অনিচ্ছায় বিষয়টি ঘটেছে। বিশেষত আপনি যখন আট মাসের গর্ভবতী ও চরম অসহায় অবস্থায় ছিলেন, তখন আপনার স্বামী ও শ্বশুর পারিবারিক চাপ ও জোর-জবরদস্তি প্রয়োগ করে আপনার নামে কিস্তি উত্তোলন করেছেন এবং জামিনদার বানিয়েছেন।
অতএব, শরীয়তের বিধান অনুযায়ী অন্তরে ঘৃণা থাকা সত্ত্বেও বলপ্রয়োগ ও বাধ্যবাধকতার কারণে আপনি যে স্বাক্ষর বা সম্মতি দিয়েছেন, তার কারণে আপনি সুদের অংশীদার হবেন না। এই সুদই ঋণের সমস্ত পাপ ও অভিশাপ কেবল তাদের ওপরই বর্তাবে, যারা অন্যায়ভাবে আপনাকে বাধ্য করেছে এবং সুদের অর্থ ভোগ করছে। আপনার অন্তরে আল্লাহর যে ভয় সৃষ্টি হয়েছে, তা ঈমানের আলামত। আপনি মনে মনে আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করতে থাকুন এবং সাধ্যমতো স্বামীকে বোঝান যাতে দ্রুত এই সুদী কিস্তি পরিশোধ করে পুরোপুরি দায়মুক্ত হওয়া যায়।
