Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

যেসব দৈনন্দিন অভ্যাস অজান্তেই চোখের ক্ষতি করছে

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

যেসব দৈনন্দিন অভ্যাস অজান্তেই চোখের ক্ষতি করছে

Advertisement

শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হলো চোখ। অথচ প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসের কারণেই ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি হতে পারে। ভারতের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রাশ্মি জয়সওয়ালের মতে, অনেকেই এমন কিছু ভুল নিয়মিত করেন, যা প্রথমে তেমন গুরুতর মনে না হলেও দীর্ঘমেয়াদে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

১. চোখে সমস্যা হলেও চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হওয়া

অনেকেই ঝাপসা দেখা, কম আলোতে পড়তে অসুবিধা হওয়া কিংবা রাতে গাড়ির আলোতে অতিরিক্ত ঝলক লাগার মতো উপসর্গকে গুরুত্ব দেন না। তবে এসব লক্ষণ ছানি, গ্লুকোমা বা রেটিনার বিভিন্ন সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে। তাই দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

২. শুধু চশমার পাওয়ার পরীক্ষা করেই নিশ্চিন্ত থাকা

চশমার পাওয়ার ঠিক আছে মানেই চোখ সুস্থ—এমন ধারণা সঠিক নয়। চোখের বিভিন্ন জটিল রোগ শনাক্ত করতে পূর্ণাঙ্গ চক্ষু পরীক্ষা প্রয়োজন। সাধারণ অপটিক্যাল দোকানে এসব পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।

৩. নিজের সিদ্ধান্তে আই ড্রপ ব্যবহার

চোখ লাল বা অস্বস্তি হলেই অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আই ড্রপ ব্যবহার করেন। এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে স্টেরয়েডযুক্ত আই ড্রপ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করলে গ্লুকোমাসহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

৪. দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা

কম্পিউটার, মোবাইল বা ট্যাবের স্ক্রিনে দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে চোখে চাপ পড়ে। এ সমস্যা কমাতে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা আরামদায়ক পর্যায়ে রাখা, সঠিক ভঙ্গিতে বসা এবং ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ড ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকানো উচিত।

৫. বছরের পর বছর একই চশমা ব্যবহার

চোখের পাওয়ার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরোনো পাওয়ারের চশমা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে চোখে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা মাথাব্যথা, চোখের ক্লান্তি ও অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

৬. কনট্যাক্ট লেন্স পরে ঘুমিয়ে পড়া

অনেকেই অসাবধানতাবশত কনট্যাক্ট লেন্স খুলতে ভুলে যান। কিন্তু লেন্স পরে ঘুমালে কর্নিয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে।

৭. নিয়মিত চোখ পরীক্ষা না করানো

শুধু পরিষ্কার দেখা মানেই চোখ পুরোপুরি সুস্থ—এমন ধারণা ভুল। গ্লুকোমার মতো অনেক রোগ দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ ছাড়াই অগ্রসর হয়। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর চোখের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করানো দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

৮. বাইরে বের হয়ে সানগ্লাস ব্যবহার না করা

সূর্যের অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মি দীর্ঘদিন চোখের ক্ষতি করতে পারে এবং ছানিসহ বিভিন্ন চোখের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বাইরে বের হলে ভালো মানের ইউভি-প্রতিরোধী সানগ্লাস ব্যবহার করা চোখের সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।

চোখের সুস্থতা ধরে রাখতে বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং দৈনন্দিন কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললেই দীর্ঘদিন দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখা সম্ভব।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারে চোখে জ্বালাপোড়া? জানুন কারণ ও প্রতিকার

দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারে চোখে জ্বালাপোড়া? জানুন কারণ ও প্রতিকার

চোখের স্বাস্থ্য ঠিক আছে তো? কখন পরীক্ষা করানো জরুরি

চোখের স্বাস্থ্য ঠিক আছে তো? কখন পরীক্ষা করানো জরুরি

ভোলায় তথ্যমন্ত্রীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ

ভোলায় তথ্যমন্ত্রীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ

ব্লু-লাইট চশমা কি সত্যিই চোখ রক্ষা করে?

ব্লু-লাইট চশমা কি সত্যিই চোখ রক্ষা করে?

চশমার কাচে আঁচড়, ঝাপসা দেখছেন? যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

চশমার কাচে আঁচড়, ঝাপসা দেখছেন? যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

‘চোখ ওঠা’ রোগ কীভাবে ছড়ায়? জেনে নিন লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

‘চোখ ওঠা’ রোগ কীভাবে ছড়ায়? জেনে নিন লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

আরও পড়ুন

শিশুদের ক্যানসারের ৪ লক্ষণ, অবহেলা করলেই বিপদ

শিশুদের ক্যানসারের ৪ লক্ষণ, অবহেলা করলেই বিপদ

স্মার্টফোন-টাকার নোট ধরার পর যে কারণে হাত ধোয়া জরুরি

স্মার্টফোন-টাকার নোট ধরার পর যে কারণে হাত ধোয়া জরুরি

শীতের আগে গিজার চালু করার প্রস্তুতি, দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক হোন

শীতের আগে গিজার চালু করার প্রস্তুতি, দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক হোন

ওজন কমানোর ওষুধে বাড়তে পারে পুরুষের প্রজননক্ষমতা, বলছে গবেষণা

ওজন কমানোর ওষুধে বাড়তে পারে পুরুষের প্রজননক্ষমতা, বলছে গবেষণা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম