চিকন হলেই কোলেস্টেরল থেকে মুক্তি নেই, সতর্ক করলেন চিকিৎসক
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
স্লিম বলেই কি আপনি কোলেস্টেরল থেকে নিরাপদ? সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আপনি স্লিম বা শারীরিকভাবে ফিট হলেই যে উচ্চ কোলেস্টেরলের হাত থেকে সুরক্ষিত, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাজ্যের একজন কার্ডিওলজিস্ট এই সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ওজন বা জীবনযাপন পদ্ধতি যেমনই হোক না কেন, সবারই নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত।
কার্ডিওলজিস্ট বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেকেই ভুলবশত মনে করেন যে উচ্চ কোলেস্টেরল কেবল স্থূলকায়, বয়স্ক বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত ব্যক্তিদেরই হয়ে থাকে।
তিনি জানান, উচ্চ কোলেস্টেরল বছরের পর বছর ধরে শরীরে অগোচরে থেকে যেতে পারে, কারণ এর সাধারণত কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। আর এ কারণেই এটিকে ‘নীরব ঘাতক’ বা ‘সাইলেন্ট থ্রেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
চিকিৎসা করা না হলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার বা হৃদরোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়; এমনকি বাহ্যিকভাবে সুস্থ দেখতে মানুষদের ক্ষেত্রেও এটি ঘটতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর ওজন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এগুলো কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না।
তিনি বলেন, ‘আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা জানার একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় হলো রক্ত পরীক্ষা।’ অনেক মানুষই কোনো ধরনের সতর্কতামূলক লক্ষণ ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ে বেঁচে আছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যাদের পরিবারে উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা নিজেদের পুরোপুরি সুস্থ মনে করলেও তাদের জন্য নিয়মিত কোলেস্টেরল স্ক্রিনিং করানো অত্যন্ত জরুরি বলে জোর দেন এই চিকিৎসক।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, কোলেস্টেরল হলো এক ধরণের চর্বিজাতীয় পদার্থ, যা বিভিন্ন ধরনের লাইপোপ্রোটিনের মাধ্যমে রক্ত চলাচলের পথে বাহিত হয়।
লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন (এলডিএল), যা সাধারণত ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ নামে পরিচিত, ধমনির দেয়ালে জমা হতে পারে। এর ফলে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে, হাই-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন (এইচডিএল) বা ‘ভালো কোলেস্টেরল’ রক্ত থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। শরীরে এইচডিএলের মাত্রা কমে গেলে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করার সক্ষমতা হ্রাস পায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, বয়স, শরীরের ওজন বা শারীরিক গঠন যেমনই হোক না কেন, অন্তর্নিহিত যেকোনো ঝুঁকি আগে থেকে শনাক্ত করতে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো উচিত।
সূত্র: সামা টিভি

