কেবল অনিয়মিত ঘুমই কি আলঝেইমার রোগের ঝুঁকির জন্য দায়ী? যা বলছেন গবেষকরা
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
প্রতীকী ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত একটি বিশেষ জিন ঘুমের অনিয়মের কারণে আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কতটুকু বাড়তে পারে, তা নিয়ন্ত্রণ করে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইসিইউ) ‘সেন্টার ফর প্রিসিশন হেলথ’-এর গবেষকদের একটি গবেষণায় এই নতুন তথ্য সামনে এসেছে।
গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত করে যে, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং ঘুমের অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আলঝেইমার প্রতিরোধের উপায় আরও ব্যক্তিগতকৃত করা সম্ভব হবে।
ঘুমের সময় মানুষের মস্তিষ্কের বর্জ্য পরিষ্কারের প্রক্রিয়াটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রক্রিয়াটি আলঝেইমারের জন্য দায়ী ক্ষতিকর প্রোটিন অপসারণে সাহায্য করে।
গবেষণায় আকুয়াপোরিন-৪ নামক জিন পরীক্ষা করা হয়, যা মস্তিষ্কে তরল প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মানুষের শরীরে আকুয়াপোরিন-৪ জিনের কোন ধরণটি বিদ্যমান, তার ওপর ভিত্তি করে ঘুমের প্রভাব ভিন্ন ভিন্ন হয়।
গবেষক ড. আয়েশা মিলিগান আর্মস্ট্রং জানান, ‘যাদের শরীরে আকুয়াপোরিন-৪ জিনের নির্দিষ্ট কিছু ধরন রয়েছে, তাদের কম ঘুমের কারণে মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার দ্রুত হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু জিন বহন করাই প্রধান নয়, পরিবেশের সঙ্গে তা কীভাবে মিথস্ক্রিয়া করছে সেটাই আসল। একই জিন ভিন্ন ঘুমের অভ্যাসের কারণে প্রতিরক্ষামূলক বা ক্ষতিকর হতে পারে। যেহেতু ঘুম পরিবর্তনযোগ্য একটি বিষয়, তাই মানুষ চাইলে এটি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে পারে।’
উল্লেখ্য, মস্তিষ্কের ‘গ্রে ম্যাটার’-এ স্মৃতিশক্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কোষগুলো অবস্থান করে। এর আয়তন কমে যাওয়া মস্তিষ্কের গঠনে ক্ষতিকর পরিবর্তনের লক্ষণ।
জিনগত ধরনের ওপর নির্ভর করে ঘুমের প্রভাব
গবেষকরা আকুয়াপোরিন-৪ জিনের ১৩টি সাধারণ ধরণ বিশ্লেষণ করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের ঘুমের অভ্যাস, মস্তিষ্কের স্ক্যান ও জ্ঞানীয় পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন।
দেখা গেছে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কম সময় ঘুমানোর ফলে গ্রে ম্যাটার দ্রুত কমে যাচ্ছে, আবার অন্য অনেকের ক্ষেত্রে দেরিতে ঘুম আসার কারণে মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তন বা আয়তন হ্রাস পাচ্ছে।
আকুয়াপোরিন-৪ জিনের বৈচিত্র্যের ওপর ভিত্তি করে আলঝেইমারের লক্ষণ কারো জন্য ইতিবাচক আবার কারো জন্য ক্ষতিকর রূপে দেখা দিয়েছে।
গবেষক ড. তেনিয়েল পোর্টার জানান, কম ঘুম এবং আলঝেইমারের ঝুঁকির বিষয়টি আগে থেকেই জানা থাকলেও, এই গবেষণা দেখাচ্ছে যে সবাইকে একই উপায়ে মূল্যায়নের সুযোগ নেই। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এখনই জেনেটিক পরীক্ষার প্রয়োজন নেই; বড় পরিসরে আরও বিশ্লেষণের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
ব্যক্তিগতকৃত আলঝেইমার প্রতিরোধের দিকে পদক্ষেপ
এই আবিষ্কার নির্দেশ করে যে, আলঝেইমারের একইরকম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দুজন ব্যক্তি কম ঘুমের কারণে ভিন্নভাবে প্রভাবিত হতে পারেন।
সেন্টার ফর প্রিসিশন হেলথ-এর পরিচালক অধ্যাপক সাইমন লজ বলেন, ‘কেন কিছু মানুষের মস্তিষ্ক অন্যদের চেয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা বোঝার ক্ষেত্রে এই গবেষণা সাহায্য করবে। আলঝেইমারের ঝুঁকিতে থাকা সবাইকে এক ছাঁচে না ফেলে, কার কী প্রয়োজন সেই অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক জীবনধারা নিশ্চিত করাই হলো ভবিষ্যৎ চিকিৎসার মূল লক্ষ্য।’

