নতুন জায়গায় প্রথম রাতে কেন ঘুম হয় না? জানুন বিজ্ঞানসম্মত কারণ ও সমাধান
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নতুন কোনো জায়গায় প্রথম রাত কাটানোর অভিজ্ঞতায় প্রায় সবাই একটি বিষয় গভীরভাবে উপলব্ধি করেন—ঘুম দেরিতে আসা, মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া এবং সার্বিকভাবে কম ঘুম হওয়া।
একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সেলস ডিরেক্টর রবিনসন লিওনি, যিনি কাজের প্রয়োজনে মাসে অন্তত দুই-একবার ভ্রমণ করেন, জানান যে নিজ বাড়িতে দিনে গড়ে সাত ঘণ্টা ঘুমালেও ভ্রমণের প্রথম রাতে স্মার্টওয়াচের হিসাব অনুযায়ী তিনি মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মতো ঘুমাতে পারেন। কোনো মানসিক চাপ অনুভব না করলেও এই অচেনা পরিবেশে বারবার তার ঘুম ভেঙে যায়।
ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিচিত সমস্যার নাম ‘ফার্স্ট-নাইট ইফেক্ট’ বা প্রথম রাতের প্রভাব।
সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ফ্রাইবার্গের জ্যেষ্ঠ ঘুম গবেষক অ্যানা উইক জানান, বিবর্তনগত কারণেই মানুষের মস্তিষ্ক এমনভাবে তৈরি। অচেনা পরিবেশে আত্মরক্ষার জন্য ঘুমালেও মস্তিষ্কের একটি অংশ সার্বক্ষণিক জাগ্রত বা সতর্ক থাকে।
পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গ ইউনিভার্সিটির শিশুরোগ ও ঘুম গবেষক আহমাদ মেয়েলি জানান, সাধারণত একটি নতুন পরিবেশে গেলে মানুষের ঘুম প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর ঘুমের সঙ্গে জড়িত মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব নতুন জায়গায় বেশি সক্রিয় থাকে। ডলফিনের সাঁতার কাটার সময় মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ জেগে থাকার মতো পুরোপুরি না হলেও, মানুষের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট অংশ কম ঘুমায়।
তিনি আরও জানান, বিশের কোঠায় থাকা তরুণ-তরুণীদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব সবচেয়ে কম হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা বৃদ্ধি পায়।
তবে ঘুম বিশেষজ্ঞ ও মনস্তাত্ত্বিক লিসা স্ট্রসের মতে, কেবল বিবর্তনগত সতর্কতাই নয়; ভ্রমণের ক্লান্তি, নতুন ঘরের পরিবেশ (যেমন—হোটেলের ধোঁয়া শনাক্তকরণ যন্ত্রের লাইট) এবং ভ্রমণজনিত মানসিক দুশ্চিন্তাও এই অনিদ্রার পেছনে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই উদ্বেগের প্রবণতা রয়েছে, তারা ‘আজ রাতে কি ঘুম আসবে?’ এমন চিন্তায় পড়ে আরও বেশি জেগে থাকেন।
অনিদ্রা দূর করতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
নিজের পরিচিত জিনিস সঙ্গে রাখা: ভ্রমণে নিজের ব্যবহৃত প্রিয় বালিশ বা কম্বল সঙ্গে নিলে পরিবেশটি তুলনামূলক কম অচেনা মনে হয়।
বিছানার পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া: শোবার পরপরই ঘুমানোর চেষ্টা না করে কিছুক্ষণ বই পড়ে বা শান্ত কোনো কাজ করে নতুন বিছানাটিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করার চেষ্টা করুন।
নিয়ম মেনে চলা: ভ্রমণে যাওয়ার আগে এবং ভ্রমণের সময় নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, ঘর ঠাণ্ডা ও অন্ধকার রাখা এবং ঘুমানোর আগে মোবাইল/টিভি ব্যবহার বন্ধ রাখার অভ্যাস বজায় রাখুন।
মানসিক চাপ কমানোর মনস্তাত্ত্বিক চর্চা: নিজের প্রিয় বা নিরাপদ কোনো প্রাকৃতিক পরিবেশ কল্পনা করুন এবং মানসিকভাবে নিজেকে আশ্বাস দিন যে আপনি নিরাপদে আছেন।
গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে একদিন আগে পৌঁছানো: এক রাতের কম ঘুম শরীরের ওপর বড় কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে না। তবে পরদিন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সভা বা কাজ থাকলে একদিন আগেই পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে, যাতে শরীর নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
সূত্র: জাপান টুডে

