ঘুমের মধ্যে কেন দাঁত কিড়মিড় করে মানুষ? জেনে নিন কারণ
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ পিএম
প্রতীকী ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোয়ালে অস্বস্তিকর ব্যথা কিংবা তীব্র মাথাব্যথা—অনেকের জন্যই এটি খুব পরিচিত সমস্যা। আপনি হয়তো টেরও পাচ্ছেন না, কিন্তু রাতে গভীর ঘুমে থাকা অবস্থায় আপনার শরীর অজান্তেই এক নীরব ক্ষয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
দন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ঘুমের মধ্যে দাঁতে দাঁত ঘষা বা চোয়াল শক্ত করে চেপে রাখার এই অভ্যাসকে বলা হয় ‘ব্রুকসিজম’। এটি কেবল একটি বিরক্তিকর শব্দই নয়, বরং আপনার শরীর ও মানসিক চাপের এক গভীর শারীরিক প্রতিফলন।
কেন এমন হয়, এর লক্ষণগুলো কী এবং কীভাবে সহজ উপায়ে এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব—আসুন জেনে নেওয়া যাক।
ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করার মূল কারণ
দিনের নানা অভ্যাস ও শারীরিক অবস্থা রাতের ঘুমে প্রভাব ফেলে। সাধারণত যেসব কারণে মানুষ রাতে দাঁত কিড়মিড় করে:
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: সারাদিনের দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ রাতের বেলায় চোয়ালের পেশির মাধ্যমে চেপে রাখা শক্তিরূপে প্রকাশ পায়।
দাঁতের অসমান গঠন: ওপর ও নিচের পাটির দাঁত সঠিকভাবে না মিললে আরামদায়ক অবস্থান খুঁজতে গিয়ে রাতে অজান্তেই চোয়াল নড়াচড়া করে।
শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা: নাক ডাকা বা ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হলে শরীর শ্বাসনালি খোলা রাখতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চোয়াল শক্ত করে ফেলে।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান: বিকালের পর বা রাতে বেশি চা-কফি পানের অভ্যাস চোয়ালের পেশিকে অতিরিক্ত সক্রিয় রাখে।
আপনি কি ব্রুকসিজমে ভুগছেন? বোঝার উপায়
যেহেতু ঘটনাটি ঘুমে ঘটে, তাই অনেকেই শুরুতে এটি বুঝতে পারেন না। তবে কিছু স্পষ্ট লক্ষণ দেখলে সাবধান হওয়া জরুরি:
সকালের মাথাব্যথা: কানের দুই পাশে বা মাথার দুই পাশে একধরনের মৃদু ও একঘেয়ে ব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙা।
দাঁত শিরশির করা: ঠান্ডা বা গরম খাবার কিংবা পানীয় খেলে দাঁত তীব্রভাবে শিরশির করে ওঠা।
দাঁতের আকৃতি পরিবর্তন: ধারালো বা চোখা দাঁতগুলো ক্রমশ সমতল ও আগের চেয়ে ছোট দেখাবে।
কানে ব্যথা ও শব্দ: চোয়াল খুলতে বা হাই তুলতে গেলে ‘পপ’ শব্দ হওয়া কিংবা কান ব্যথার অনুভূতি হওয়া।
জিহ্বায় দাঁতের ছাপ: শক্ত করে চেপে রাখার কারণে জিভের দুই পাশে ঢেউখেলানো ছাপ পড়ে যেতে পারে।
বাড়িতেই চোয়ালের পেশি শিথিল করার সহজ উপায়
চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ছোট কিছু পরিবর্তন এনে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব:
হালকা গরম সেঁক: ঘুমানোর আগে ১০ মিনিটের জন্য গালের দুই পাশে হালকা গরম ও ভেজা কাপড় ধরে রাখুন। এতে চোয়ালের পেশি শিথিল হবে।
জিহ্বার সঠিক অবস্থান শেখা: দিনের বেলায় দাঁতে দাঁত চেপে না রেখে জিহ্বার ওপরের তালুতে ঠেকিয়ে রাখার চর্চা করুন, যাতে চোয়াল আলগা থাকার অভ্যাস তৈরি হয়।
ঘুমানোর আগে রিফ্রেশিং রুটিন: রাতে ঘুমানোর আগে বই পড়া কিংবা হালকা গরম পানিতে গোসল করার মতো রিল্যাক্সিং অভ্যাস গড়ে তুলুন।
নরম খাবার নির্বাচন: চোয়ালকে বিশ্রাম দিতে কিছুদিনের জন্য অতিরিক্ত শক্ত বা অতিরিক্ত চিবোতে হয় এমন খাবার এড়িয়ে চলুন।
প্রতিকার না করলে কী হতে পারে?
দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস বজায় থাকলে দাঁতের গঠন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়:
দাঁতের ওপরের এনামেল ক্ষয় হয়ে দাঁত ভেঙে যেতে পারে বা আলগা হয়ে যেতে পারে।
চোয়ালের জয়েন্টে স্থায়ী সমস্যা তৈরি হতে পারে, যার ফলে মুখ খুলতেই কষ্ট হবে।
ওভারওয়ার্কড পেশির কারণে মুখের বাহ্যিক আকৃতি চওড়া বা চারকোনা হয়ে যেতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি সকালে নিয়মিত চোয়ালে ব্যথা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠেন, তবে দ্রুত ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। চিকিৎসক আপনার দাঁতের মাপ নিয়ে একটি কাস্টমাইজড ‘নাইট গার্ড’ তৈরি করে দিতে পারেন। রাতে এটি পরে ঘুমালে আপনার মূল দাঁত ক্ষয়ে যাওয়া থেকে বেঁচে যাবে।

