টানা এক মাস ভেজানো কিশমিশ খেলে শরীরে কী পরিবর্তন আসে?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
ভেজানো কিশমিশ খেলে হজম ভালো হয়, রক্তস্বল্পতা কমে এবং শরীর সুস্থ থাকে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মিষ্টি স্বাদের কিশমিশ শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, এতে রয়েছে শরীরের জন্য উপকারী নানা পুষ্টি উপাদান। অনেকে মনে করেন, এভাবে কিশমিশ খেলে হজম ভালো হয়, রক্তস্বল্পতা কমে এবং শরীর সুস্থ থাকে। তবে এক মাস প্রতিদিন ভেজানো কিশমিশ খেলে সত্যিই কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে?
পুষ্টিবিদদের মতে, কিশমিশে থাকা ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন ও অন্যান্য খনিজ উপাদান শরীরের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতে পারে। তবে এর উপকারিতা নির্ভর করে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অবস্থা ও খাওয়ার পরিমাণের ওপর।
কীভাবে তৈরি করবেন ভেজানো কিশমিশ?
একটি ছোট পাত্রে ১০ থেকে ১৫টি কিশমিশ নিয়ে তাতে হালকা গরম পানি দিন। এরপর ছয় থেকে আট ঘণ্টা, অর্থাৎ সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে নরম হয়ে যাওয়া কিশমিশ খেতে পারেন। চাইলে ভেজানো পানিও পান করতে পারেন।
পানিতে ভিজিয়ে রাখলে কিশমিশ নরম হয়, ফলে চিবিয়ে খাওয়া সহজ হয়। তবে ভিজিয়ে রাখলেই এর সব পুষ্টি উপাদান বেশি কার্যকর হয়ে যায়—এমন প্রমাণ নেই।
এক মাস প্রতিদিন ভেজানো কিশমিশ খেলে যেসব উপকার পেতে পারেন
১. শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জোগান বাড়তে পারে
কিশমিশে রয়েছে পলিফেনলসহ বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কোষের ক্ষতি এবং বয়সজনিত বিভিন্ন পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিয়মিত কিশমিশ খেলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এক মাসেই দৃশ্যমান পরিবর্তন হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
২. হজম ও মলত্যাগের নিয়মিততা বজায় রাখতে সাহায্য করে
কিশমিশে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়—দুই ধরনের ফাইবার রয়েছে। পাশাপাশি এতে কিছু প্রিবায়োটিক উপাদানও পাওয়া যায়, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য সহায়ক হতে পারে।
নিয়মিত পরিমাণমতো কিশমিশ খেলে মলত্যাগের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য পেতে পারেন। পর্যাপ্ত পানি পান ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার পাশাপাশি এটি উপকারী হতে পারে।
৩. রক্তচাপ ও হৃদ্স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে
কিশমিশ নিয়ে করা কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এটি খাওয়ার ফলে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং হৃদ্রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ঝুঁকির সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব গবেষণায় নির্দিষ্ট পরিমাণ কিশমিশ খাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে।
এক মাস প্রতিদিন ভেজানো কিশমিশ খেলেই রক্তচাপ কমবে বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যথেষ্ট প্রমাণ নেই। সুস্থ হৃদ্যন্ত্রের জন্য সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি।
৪. শরীরে শক্তি জোগাতে পারে
কিশমিশে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে, যা শরীরে শক্তি জোগায়। এতে থাকা ফাইবার ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ উপাদান শর্করা গ্রহণের পর রক্তে গ্লুকোজের প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিস্কুট, মিষ্টি বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে পরিমিত কিশমিশ খেলে তুলনামূলক পুষ্টিকর নাশতা পাওয়া সম্ভব। তবে কিশমিশেও শর্করা ও ক্যালরি রয়েছে। তাই একে রক্তে শর্করা বাড়ায় না—এমন খাবার ভাবা ঠিক নয়।
৫. আয়রনের চাহিদা পূরণে কিছুটা সহায়তা করতে পারে
কিশমিশে আয়রন রয়েছে, যা শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়। কিছু সীমিত গবেষণায় নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত কিশমিশ খাওয়ার পর হিমোগ্লোবিন বা আয়রনের সূচকে সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে কিশমিশে থাকা আয়রনের পরিমাণ সীমিত এবং উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রন শরীরে শোষিত হওয়ার হারও তুলনামূলক কম হতে পারে। তাই আয়রনের ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতা দূর করতে শুধু কিশমিশের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রনসমৃদ্ধ খাবার ও ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।
প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
কিশমিশের কিছু উপকারিতা থাকলেও অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে সমস্যা হতে পারে। তাই কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
ক্যালরি ও শর্করা: কিশমিশে প্রাকৃতিক শর্করা ঘন অবস্থায় থাকে। বেশি পরিমাণে খেলে দৈনিক ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। সাধারণভাবে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ গ্রাম কিশমিশ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।
দাঁতের যত্ন: কিশমিশ আঠালো হওয়ায় দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকতে পারে। তাই কিশমিশ খাওয়ার পর পানি দিয়ে মুখ কুলকুচি করা এবং নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা ভালো।
ডায়াবেটিস: কিশমিশ খেলেও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে পারে। ডায়াবেটিস থাকলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন এবং নিজের রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
সংরক্ষণকারী উপাদান: বাজারে পাওয়া কিছু কিশমিশে সালফাইটের মতো সংরক্ষণকারী উপাদান থাকতে পারে। এসব উপাদানে সংবেদনশীলতা থাকলে প্যাকেটের উপাদান তালিকা দেখে কিশমিশ কিনুন।
শেষ কথা
রাতে ভিজিয়ে রাখা কিশমিশ সকালে খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। এতে থাকা ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজ উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। তবে শুধু এক মাস কিশমিশ খেলেই হজমের সমস্যা দূর হবে, রক্তস্বল্পতা কমবে কিংবা হৃদ্স্বাস্থ্য নিশ্চিত হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।
পরিমিত পরিমাণে কিশমিশ খাওয়ার পাশাপাশি সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সূত্র: এনডিটিভি

