এক প্রোটিনে ফিরবে মস্তিষ্কের কোষের কর্মক্ষমতা, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০১ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের রোগপ্রতিরোধী কোষের কার্যক্ষমতা কমে যায়। তবে তারুণ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত টিআইএমপি২ নামের একটি প্রোটিন এসব কোষের কিছু হারানো ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে ইঙ্গিত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাইয়ের আইকান স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকদের ইঁদুরের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, টিআইএমপি২ প্রোটিনের অভাবে মস্তিষ্কের রোগপ্রতিরোধী কোষ মাইক্রোগ্লিয়ার কার্যক্রমে বয়সজনিত পরিবর্তন দেখা দেয়। কোষগুলো ক্ষতিকর বর্জ্য পরিষ্কারে কম কার্যকর হয়ে পড়ে এবং প্রদাহের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
অন্যদিকে, বয়স্ক ইঁদুরের রক্তপ্রবাহে টিআইএমপি২ সরবরাহ করার পর মাইক্রোগ্লিয়ার বর্জ্য অপসারণের ক্ষমতা বাড়ে এবং প্রদাহের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু আণবিক লক্ষণ কমে আসে।
গবেষণাটি নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই প্রভাব মানুষের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
টিআইএমপি২ না থাকলে কী ঘটে
টিআইএমপি২ কীভাবে মাইক্রোগ্লিয়াকে প্রভাবিত করে, তা জানতে গবেষকেরা বিভিন্ন ধরনের ইঁদুর নিয়ে পরীক্ষা করেন। কোনো কোনো ইঁদুরের শরীরে জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রোটিনটি তৈরি হওয়া বন্ধ করা হয়। অন্যদের ক্ষেত্রে শুধু মাইক্রোগ্লিয়া অথবা স্নায়ুকোষ থেকে প্রোটিনটি সরিয়ে দেওয়া হয়।
কোষের জিনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ, কার্যক্ষমতা যাচাই এবং জীবন্ত মস্তিষ্কের টিস্যুর আশপাশের তরল থেকে বিভিন্ন পদার্থ সংগ্রহ ও পরিমাপের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করেন গবেষকেরা।
পরীক্ষায় দেখা যায়, টিআইএমপি২ না থাকলে মাইক্রোগ্লিয়ায় বয়স বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের আঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে। কোষের সক্রিয়তার নির্দেশক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসে, বর্জ্য অপসারণের ক্ষমতা কমে যায়।
শুধু রোগপ্রতিরোধী কোষেই নয়, মস্তিষ্কের কোষগুলোর আশপাশের পরিবেশেও পরিবর্তন দেখা যায়। গবেষকেরা সেখানে প্রদাহ ও কোষীয় চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রোটিনের মাত্রা বেশি পান।
এসব ফলাফল থেকে গবেষকদের ধারণা, টিআইএমপি২ মাইক্রোগ্লিয়াকে এমন কিছু পরিবর্তন থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে, যা মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বয়স্ক ইঁদুরে প্রোটিন সরবরাহে ইতিবাচক ফল
পরবর্তী ধাপে গবেষকেরা পরীক্ষা করেন, বয়স্ক ইঁদুরের শরীরে টিআইএমপি২ সরবরাহ করলে বয়সজনিত পরিবর্তন কমানো যায় কিনা। এ জন্য ইঁদুরগুলোকে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রোটিনটি দেওয়া হয়, যাতে তা রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ফলাফলে দেখা যায়, চিকিৎসার পর মাইক্রোগ্লিয়া কোষের বর্জ্য অপসারণের ক্ষমতা উন্নত হয়। একই সঙ্গে প্রদাহের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু আণবিক নির্দেশকের মাত্রা কমে আসে।
অর্থাৎ, বয়স বাড়ার সঙ্গে মাইক্রোগ্লিয়ার যেসব কার্যক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে, টিআইএমপি২ সরবরাহের মাধ্যমে তার কিছু অংশ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা দেখা গেছে।
গবেষণাটি এখন পর্যন্ত ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছে। মানুষের মস্তিষ্কে টিআইএমপি২ একইভাবে কাজ করে কি না, প্রোটিনটি নিয়ন্ত্রণ করা নিরাপদ কিনা কিংবা এর মাধ্যমে আলঝেইমার প্রতিরোধ বা চিকিৎসা সম্ভব কিনা এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। এ জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
সূত্র: সাইন্স ডোইলি
