চোখ সুস্থ রাখার সহজ উপায় কী এই ‘২০-২০-২০’?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডিজিটাল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ক্লান্তি আর ঝাপসা দৃষ্টিকে কি শুধুই সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন? বর্তমান যুগে আমাদের ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতের শেষ সামাজিক মাধ্যম স্ক্রোল করা পর্যন্ত—সবকিছুতেই স্ক্রিন বা পর্দার উপস্থিতি অপরিহার্য। তবে একটানা দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার আমাদের চোখের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।
সম্প্রতি ১২ বছর বয়সি এক শিশুর একটি ঘটনা এই বিষয়ে নতুন করে ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে।
তার বাবা-মা প্রথমে ভেবেছিলেন, ট্যাবলেটে দীর্ঘ সময় ক্লাস, গেম আর ভিডিও দেখার কারণে ছেলেটির ঘনঘন চোখ মোছা ও মাথাব্যথার সমস্যাটা কেবল সাধারণ ‘স্ক্রিন ক্লান্তি’। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর জানা যায়, তার মায়োপিয়া বা দীর্ঘদৃষ্টির সমস্যা দেখা দিয়েছে যার জন্য চশমা প্রয়োজন।
দীর্ঘসময় ধরে খুব কাছ থেকে ডিভাইস ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো বা বাইরের আলোয় না যাওয়ার ফলে চোখের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ হয়ে যায়। এর ফলে আলো সরাসরি রেটিনার ওপর না পড়ে তার সামনে ফোকাস হয়, আর দূরের জিনিস ঝাপসা দেখাতে শুরু করে।
দীর্ঘসময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে শুষ্ক ভাব, জ্বালাপোড়া, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা এবং ফোকাস করতে সমস্যা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এর প্রধান কারণ হলো, স্ক্রিনে কিছু দেখার সময় আমরা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম পলক ফেলি, যার ফলে চোখের উপরিভাগ শুকিয়ে যায়।
অবশ্য কেবল স্ক্রিনের দিকে তাকালেই যে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হয় বিষয়টি এমন নয়, তবে একটানা কাছে রেখে কাজ করলে চোখে প্রচণ্ড ক্লান্তি ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। এর সমাধান প্রযুক্তি বর্জন করা নয়, বরং প্রযুক্তিকে আরও সচেতনভাবে ব্যবহার করা।
চোখ সুস্থ রাখতে কিছু জরুরি অভ্যাস
২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন: এটি চোখের ক্লান্তি দূর করার সবচেয়ে সহজ উপায়। প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে কোনো কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকুন।
সচেতনভাবে চোখের পলক ফেলুন: স্ক্রিন ব্যবহারের সময় ঘন ঘন চোখের পলক ফেলার অভ্যাস করুন।
সঠিক দূরত্ব ও ভঙ্গি বজায় রাখুন: স্ক্রিনটি চোখের ঠিক নিচে কিছুটা উঁচুতে রাখুন, উপযুক্ত দূরত্ব বজায় রাখুন এবং ঘরের আলো ঠিকঠাক রাখুন। অতিরিক্ত শুষ্ক ভাব অনুভূত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে লুব্রিকেটিং ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
ব্লু লাইট নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করুন: অতিরিক্ত উজ্জ্বল স্ক্রিনের আলো রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, তবে সাধারণ পর্দার নীল আলো রেটিনার স্থায়ী ক্ষতি করে—এমন জোরালো প্রমাণ নেই। তাই শুধু ব্লু-লাইট ব্লকিং চশমার ওপর নির্ভর না করে বিরতি নেওয়া ও সঠিক নিয়মে স্ক্রিন ব্যবহারের দিকে নজর দেওয়া উচিত।
শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরবন্দি থেকে ডিভাইসে সময় কাটানো এবং বাইরে রোদে খেলাধুলা না করার অভ্যাস শিশুদের মধ্যে মায়োপিয়া বা নিকটদৃষ্টির সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, শিশুদের ডিভাইসে একটানা দীর্ঘ সময় কাটানো থেকে দূরে রাখতে হবে এবং প্রতিদিনের রুটিনে নিয়মিত বাইরে খেলাধুলা রাখা আবশ্যক।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন?
সারাদিন স্ক্রিনের সামনে কাজ করার পর সামান্য ক্লান্তি আসতেই পারে। তবে নিয়মিত ঝাপসা দেখা, ঘন ঘন মাথাব্যথা, চোখের ব্যথা, লাল হয়ে যাওয়া বা দূরের জিনিস দেখতে সমস্যা হওয়াকে কেবল ‘স্ক্রিন ব্যবহার’ বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। সঠিক সময়ে চোখের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করালে বড় ধরনের দৃষ্টি সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
প্রযুক্তির এই যুগে স্ক্রিন আমাদের জীবন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়, তবে দৈনন্দিন কিছু ছোট ছোট অভ্যাসের পরিবর্তন—যেমন নিয়মিত বিরতি নেওয়া, বেশি করে চোখের পলক ফেলা এবং বাইরে সময় কাটানো—আমাদের চোখকে সুস্থ ও দৃষ্টিশক্তিকে দীর্ঘস্থায়ী রাখতে দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

-6ade65c77a238.jpg)