হজম থেকে ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ফুলকপি খাওয়ার যত উপকারিতা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
প্রতিদিনের খাবারে ফুলকপি রাখা হতে পারে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রতিদিনের খাবারে ফুলকপি রাখা হতে পারে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্য আঁশে সমৃদ্ধ এই সবজি হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখা থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি কম চর্বি ও তুলনামূলক কম কার্বোহাইড্রেট থাকায় সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাতেও এটি হতে পারে উপকারী একটি উপাদান।
একসময় ফুলকপি দীর্ঘক্ষণ সেদ্ধ করে রান্না করা হতো। তবে বর্তমানে তরকারি, ভাজি, রোস্টসহ নানা পদে ব্যবহৃত হচ্ছে সবজিটি। এমনকি ভাত ও আলুর বিকল্প হিসেবেও কিছু খাবারে ফুলকপি ব্যবহার করা হয়।
ফুলকপির বিভিন্ন রঙে রয়েছে ভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান
ফুলকপি সাধারণত সাদা রঙের হলেও বেগুনি, সবুজ ও কমলা রঙের জাতও রয়েছে। এ ছাড়া রোমানেস্কো নামে এক ধরনের ফুলকপি রয়েছে, যার ফুলের অংশগুলো সর্পিল আকৃতির হওয়ায় সহজেই আলাদা করে চেনা যায়।
ফুলকপি ব্রাসিকা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবারের অন্যান্য সবজির মধ্যে রয়েছে ব্রকলি, কেল ও ব্রাসেলস স্প্রাউট। ফুলকপির সাদা অংশ মূলত ঘনভাবে সাজানো অপরিণত ফুলের কুঁড়ি দিয়ে তৈরি।
বিভিন্ন রঙের ফুলকপিতে প্রায় একই ধরনের অনেক পুষ্টি উপাদান থাকলেও রঙের জন্য দায়ী উদ্ভিজ্জ উপাদানে পার্থক্য রয়েছে। বেগুনি ফুলকপিতে থাকে অ্যান্থোসায়ানিন, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এক ধরনের প্রাকৃতিক রঞ্জক। অন্যদিকে, সবুজ ফুলকপিতে থাকে ক্লোরোফিল।
তবে পুষ্টির দিক থেকে কোনো একটি রঙের ফুলকপিকে সব ক্ষেত্রে সেরা বলা যায় না। বরং খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রঙের শাকসবজি রাখলে নানা ধরনের ভিটামিন, খনিজ ও উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান পাওয়ার সুযোগ বাড়ে।
হজমের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক
পুষ্টিবিদ ও ন্যাচারোপ্যাথিক শেফ হানিয়া উইডমারের মতে, ফুলকপি খাদ্য আঁশের একটি ভালো উৎস। যদিও অধিক আঁশযুক্ত সবজির তালিকায় এটি শীর্ষে নেই।
ফুলকপিতে থাকা খাদ্য আঁশের বড় একটি অংশ অদ্রবণীয়। এই আঁশ মলের পরিমাণ বাড়াতে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে। ফলে বিভিন্ন ধরনের আঁশসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ফুলকপি খাওয়াও হজমের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যতালিকায় ফুলকপি
ফুলকপিতে চর্বির পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই কম এবং এতে কার্বোহাইড্রেটও তুলনামূলক কম থাকে। এ কারণে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণকারীদের জন্য সবজিটি উপযোগী হতে পারে।
বিশেষ করে কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত ও কিটোজেনিক ডায়েট অনুসরণকারীদের মধ্যে ফুলকপির জনপ্রিয়তা রয়েছে। কিছু খাবারে ভাত বা আলুর পরিবর্তে ফুলকপি ব্যবহার করা যায়। এতে খাবারের ধরন বজায় রেখেও কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ কমানোর সুযোগ থাকে।
তবে ওজন নিয়ন্ত্রণে শুধু একটি সবজি খাওয়াই যথেষ্ট নয়। সার্বিক ক্যালরি গ্রহণ, খাবারের পরিমাণ এবং রান্নার পদ্ধতিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ফেলে দেবেন না ফুলকপির পাতা ও ডাঁটা
রান্নার সময় অনেকেই ফুলকপির পাতা ও ডাঁটা ফেলে দেন। অথচ এই অংশগুলোও খাওয়ার উপযোগী।
ফুলকপির কুচি করা পাতা স্যুপে ব্যবহার করা যায়। ডাঁটা ছোট করে কেটে ফুলের অংশের সঙ্গে রান্না করা সম্ভব। চাইলে গাজরের খোসা, ব্রকলির ডাঁটা ও অন্যান্য সবজির অবশিষ্ট অংশের সঙ্গে এগুলো মিশিয়ে ঘরেই তৈরি করা যায় সবজির স্টক।
এভাবে ফুলকপির বিভিন্ন অংশ কাজে লাগালে খাবারের অপচয় কমানোর পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় আরও বেশি উদ্ভিজ্জ উপাদান যুক্ত করা সম্ভব।
শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় ভিটামিন
ফুলকপিতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফোলেট, ভিটামিন বি৬ এবং প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি৫। এ ছাড়া এতে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদানও পাওয়া যায়।
ভিটামিন সি শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে এবং কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। কোলাজেন ত্বকসহ শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর গঠন ও কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং হাড়ের সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।
ভিটামিন বি৬ স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও প্রোটিনের বিপাকে সহায়তা করে। আর প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড শরীরকে খাদ্য থেকে পাওয়া পুষ্টি উপাদান ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি নির্দিষ্ট কিছু হরমোন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যৌগ তৈরির প্রক্রিয়ায়ও অংশ নেয়।
দেশি-বিদেশি নানা পদে ফুলকপি
ফুলকপির স্বাদ মৃদু হওয়ায় এটি দিয়ে বিভিন্ন দেশের খাবার তৈরি করা যায়। ইউরোপের রান্নায় দীর্ঘদিন ধরেই সবজিটির ব্যবহার রয়েছে। রেনেসাঁ যুগে দক্ষিণ ইউরোপ, বিশেষ করে ইতালিতে ফুলকপির জনপ্রিয়তা বাড়ে। পরে ১৬ ও ১৭ শতকে এটি উত্তর ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়ে।
দক্ষিণ এশিয়ায় ফুলকপি তরকারি ও অন্যান্য সবজি রান্নার পরিচিত উপাদান। আলু ও ফুলকপি দিয়ে তৈরি আলু-গোবি এর একটি জনপ্রিয় উদাহরণ। এ ছাড়া উত্তর আফ্রিকার রোস্ট করা সবজি ও ট্যাজিন এবং ইথিওপিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সবজির ঝোলেও ফুলকপি ব্যবহার করা হয়।
কাঁচা, সেদ্ধ, ভাজা, ভর্তা কিংবা রোস্ট—বিভিন্নভাবে ফুলকপি খাওয়া যায়। তবে পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে রান্নার পদ্ধতি ও অতিরিক্ত তেল ব্যবহারের বিষয়েও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, সহজলভ্য এই সবজি সুষম খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনতে পারে। পুষ্টিগুণের পাশাপাশি রান্নায় বহুমুখী ব্যবহার এবং এর পাতা-ডাঁটা কাজে লাগানোর সুযোগ ফুলকপিকে প্রতিদিনের খাবারের জন্য একটি কার্যকর পছন্দ করে তুলেছে।
সূত্র:সামা টিভি

