ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে প্রসিকিউশন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জুলাই গণ-ভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সাজা ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সোমবার সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। গত ৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে রায় দেন।
মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তিনটি অভিযোগেই তাঁকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়। ঘোষিত রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন, এই সাজা যুগপৎ চলবে। অর্থাৎ সাজা হবে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।
গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের সাজাকে অপর্যাপ্ত মনে করায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আপিলটি করা হয়েছে। আপিলে ১১টি গ্রাউন্ড নেওয়া হয়েছে। ইনুর খালাস পাওয়া কয়েকটি অভিযোগেও সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জুরিসপ্রুডেন্স অনুযায়ী অপরাধের ভয়াবহতা, গভীরতা এবং ‘স্কেল অব দ্য অ্যাটাক’ বিবেচনা করতে হয়। কত মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে, কতজন নিহত ও আহত হয়েছেন এবং এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সমাজের প্রত্যাশা কী, এসব বিষয়ও আপিলে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রসিকিউশন বলছে, ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া পর্যবেক্ষণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথোপকথন, আন্দোলন দমনের বিষয়ে পরামর্শ, কারফিউ জারি এবং আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তারের পরামর্শ দেওয়ার বিষয় তুলে ধরেছে। এসব কর্মকাণ্ডকে ‘সত্য’ বলে পর্যবেক্ষণ দেওয়ার পরও ইনুকে ১০ বছরের সাজা দেওয়ার বিষয়টি ‘ওই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ বলে মনে করছে রাষ্ট্রপক্ষ। তামীম বলেন, ইনুর মত বেসামরিক ঊর্ধ্বতন নেতার আদেশ একজন সামরিক কমান্ডারের আদেশের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী, আন্তর্জাতিক জুরিসপ্রুডেন্সের ভিত্তিতে আপিলে সেই বিষয়টিও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তার ভাষ্য, একজন সামরিক কমান্ডার অধস্তনদের আদেশ দিলে তারা তা মানতে পারেন বা নাও পারেন। কিন্তু একজন বেসামরিক নেতা আদেশের পাশাপাশি বক্তব্য ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের পরিবেশ তৈরি করতে পারেন। আপিলটি গ্রহণ করে ইনুকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর তামীম।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী, রায়ের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। ২১(৪) ধারায় আপিল দায়েরের পর ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৬ অগাস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
