ঋণের ১১২১ কোটি টাকা লোপাট
সালমান এফ রহমানসহ তিন মামলায় আসামি ৬৯ জন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যাংক থেকে ঋণসুবিধা নিয়ে ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, স্পিংফুল অ্যাপারেলস, আরবান ফ্যাশনস ও মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানের ঋণের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে এসব মামলা করা হচ্ছে।
তিন মামলায় সালমান এফ রহমানসহ যথাক্রমে ২২, ২২ ও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অর্থাৎ পৃথক তিন মামলায় মোট আসামি ৬৯ জন। একই ব্যক্তি একাধিক মামলায় আসামি হওয়ায় এ সংখ্যা নির্ধারিত হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও তাদের অনুকূলে বিপুল অঙ্কের ঋণসুবিধা মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। পরে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ভুয়া অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। এভাবে ভুয়া বাণিজ্যিক লেনদেন দেখিয়ে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
দুদকের নথি অনুযায়ী, তিন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ ৪ হাজার ৭৫৪ টাকা ৯০ পয়সা।
দুদকের অনুমোদিত মামলার বিবরণ অনুযায়ী, স্পিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ১৪১ কোটি ২৮ লাখ ১ হাজার ১৭১ টাকা ২৫ পয়সা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এ এস এম এফ রহমান, ইকবাল আহমেদ, ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক, রীম এইচ শামসুদ্দোহা, মোহাইমিনুল ইসলাম, কোহিনুর আবেদিন, আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর, আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, আহমেদ শাহরিয়ার রহমান, আবদুছ ছালাম আজাদ, আবদুল জব্বার, মিজানুর রহমান, মো. হুমায়ুন কবির টালী, মো. আবদুর রহিম, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও এম এম মাহাতাব হোসাইন বাদশা।
আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে ৪১৭ কোটি ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৬ টাকা ৫ পয়সা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ মামলাতেও সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন এ এস এম এফ রহমান, ইকবাল আহমেদ, ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক, রীম এইচ শামসুদ্দোহা, হেলাল উদ্দিন, সাহিদা রহমান, আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর, আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, আহমেদ শাহরিয়ার রহমান, আবদুছ ছালাম আজাদ, ইসমাইল হোসেন, মো. শহিদুল হক, মিজানুর রহমান, মো. মমতাজুল ইসলাম, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. সালেহ আহমেদ ও রফিকুল ইসলাম।
অন্যদিকে, মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ৫৬৩ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫২৭ টাকা ৬০ পয়সা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে তৃতীয় মামলায়। এ মামলায় সালমান এফ রহমানসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন এ এস এম এফ রহমান, ইকবাল আহমেদ, ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক, রীম এইচ শামসুদ্দোহা, মোহাইমিনুল ইসলাম, কোহিনুর আবেদিন, আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর, আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, আহমেদ শাহরিয়ার রহমান, আবদুছ ছালাম আজাদ, আবদুল জব্বার, মো. শহিদুল হক, মিজানুর রহমান, মো. মমতাজুল ইসলাম, মো. আবদুর রহিম, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. সালেহ আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, এম এম মাহাতাব হোসাইন বাদশা ও মো. হুমায়ুন কবির টালী।
দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, তিন প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক থেকে তাদের ঋণসুবিধা দেওয়া হয়। পরে এসব ঋণের বিপরীতে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ভুয়া অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করা হয়। এসব বিলের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে অর্থের লেনদেন সম্পন্ন করা হয়।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ভুয়া বিল তৈরি করে আমদানি-রপ্তানির অর্থ পরিশোধের নামে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। নিজেদের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি হয়েছে, এমন চিত্র তৈরি করে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। পরে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, ব্যাংক কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও পারস্পরিক যোগসাজশে এসব ঋণসুবিধা মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। এতে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালক এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন।
দুদকের অনুমোদিত মামলাগুলোতে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭এ ও ১০৯ ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত আইন, ২০১৫)-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
