লক্ষ্মীপুর-৪ আসন
ভক্তের টাকা ফিরিয়ে দিয়ে নজির গড়লেন নিজান
Advertisement
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ-সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে ঘিরে এক ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক ভক্ত তাকে মনোনয়ন ফরমের জামানতের টাকা এবং একটি বই ও ডায়েরি উপহার দেন। নিজান উপহারসামগ্রী গ্রহণ করে সঙ্গে সঙ্গে ভক্তের বাবা-মার জন্য ওই টাকা ঘুরিয়ে দেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মো. সোহাগ উদ্দিন রানা নামের বিএনপির এক সমর্থক কমলনগরে আশরাফ উদ্দিন নিজানের বাসভবনে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা উপহার হিসাবে তার হাতে তুলে দেন। সঙ্গে ড. একেএম শাহাদাত হোসেন মন্ডলের লেখা ‘জননন্দিত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’ বই এবং ‘আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি ডায়েরিও উপহার দেন। উপহারসামগ্রী গ্রহণ করার পর আশরাফ উদ্দিন নিজান সেই টাকা সোহাগ উদ্দিন রানার বাবা-মার জন্য পুনরায় তার হাতে ফিরিয়ে দেন। সোহাগ উদ্দিন রানা রামগতি উপজেলার চরপোড়াগাছা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হারুন বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সোহাগ উদ্দিন রানা বলেন, ২০০১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে আশরাফ উদ্দিন নিজান লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য ছিলেন। ২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামাদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় জাতীয় সংসদে নিজানের জ্বালাময়ী বক্তব্য দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ওই বক্তব্যের কারণেই তিনি নিজানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল হয়ে পড়েন এবং সিদ্ধান্ত নেন, ভবিষ্যতে তিনি প্রার্থী হলে মনোনয়ন ফরমের টাকা নিজেই দেবেন। সে লক্ষ্যেই তিনি অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছিলেন বলে জানান। স্থানীয়দের মতে, আশরাফ উদ্দিন নিজান শুধু বিএনপির নেতা হিসাবেই নন, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে একজন জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত। ভক্তের টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি তারই একটি প্রতিফলন। এ বিষয়ে আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, রাজনীতি মানে মানুষের সেবা করা। ভালোবাসা থেকে একজন কর্মী যে উপহার দিয়েছেন, সেটি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছি। তবে সেই টাকা আমি তার বাবা-মার জন্য ফেরত দিয়েছি। এই ভালোবাসাই রাজনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি।
