Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

ভোক্তা ঠকিয়ে উচ্চ মুনাফার টার্গেট

কৌশলে বাজারে সয়াবিন চিনির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কৌশলে বাজারে সয়াবিন চিনির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি

সংগৃহীত ছবি

Advertisement

ভোক্তাদের ঠকিয়ে সয়াবিন ও চিনি ব্যবসায় উচ্চ মুনাফার টার্গেট করেছে কোম্পানিগুলো। এ লক্ষ্যে দুই সপ্তাহে কৌশলে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে কৃত্রিম সংকট। বাড়ানো হচ্ছে দাম। এরই মধ্যে ভোক্তার পকেট কেটে কেজিপ্রতি চিনিতে বাড়তি ২৫ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে সয়াবিন তেলের দামও লিটারপ্রতি বাড়ানো হয়েছে ৬ টাকা। এভাবে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না রেখে ধাপে ধাপে দাম বাড়িয়ে উচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করছে কোম্পানিগুলো। শুধু তেল-চিনিই নয়, নতুন করে আটা-ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সরবরাহ থাকার পরও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম। ফলে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় বাজারে তৈরি হচ্ছে অস্বস্তি। আর বাড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ। শুক্রবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, বাজার আসলে কে নিয়ন্ত্রণ করছে? মনে হচ্ছে সেই পুরোনো সিন্ডিকেটের হাতেই পুরো ভোক্তা সমাজকে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের একাধিক সংস্থাকে বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া থাকলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বরং প্রতি সপ্তাহেই একের পর এক পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাকে নাজেহাল করে তোলা হচ্ছে। তাই কঠোরভাবে তদারকি করে পণ্যের দাম ভোক্তা সহনীয় করতে হবে। অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর নয়াবাজারের ৬টি মুদি দোকান ঘুরে একটিতে প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর ওই ৬টি দোকানে খোলা চিনির সরবরাহও কম দেখা গেছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগেও ১১০-১২০ টাকা ছিল। আর দুই সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা। সেক্ষেত্রে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি চিনির দাম বেড়েছে ১৫-২০ টাকা। বেলা ১১টায় রাজধানীর রায়সাহেব বাজারের ৮টি মুদি দোকান ঘুরে ৩টিতে প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্যাকেটের গায়ে ১১০ টাকা লেখা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা। এছাড়া খোলা চিনি সরবরাহ কম থাকায় দোকানিরা বেশি দামে বিক্রি করছেন।

রায়সাহেব বাজারের মুদি ব্যবসায়ী মো. শাহ আলম যুগান্তরকে বলেন, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিনিতে ৭০০ টাকার বেশি দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। আর চাহিদামতো চিনি কিনতে পারছি না। প্যাকেটজাত চিনিও সরবরাহ নেই। ডিলাররা চিনি দিচ্ছে না। যা সরবরাহ করা হচ্ছে, ডিলার পর্যায়ে ১০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে বেশি দাম দিয়ে এনে বেশি মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি জানান, মিল পর্যায়ে সব কোম্পানি সিন্ডিকেট করে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। টার্গেট দাম বাড়িয়ে অতি মুনাফা করা।

এদিকে কোম্পানিগুলোর সূত্রে জানা গেছে, এক মাস ধরে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট চলছে। মিল পর্যায়ে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায়নি। যা চিনি উৎপাদনে বেগ পেতে হয়েছে। এজন্য মিল পর্যায় থেকে সরবরাহ কমেছে। তাই ডিলার হয়ে খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ কমেছে। বেড়েছে দাম।

অন্যদিকে সরকারকে চাপে ফেলে সয়াবিন তেলের দাম আরও এক দফা বাড়ানোর ছক কষেছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট। এ লক্ষ্যে পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুত থাকা সত্ত্বেও মিলপর্যায়ে সরবরাহ সংকট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিলারদের কাছে সরবরাহ কমানোর বার্তাও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লিটারপ্রতি ৮ থেকে সর্বোচ্চ ১৩ টাকা দাম বাড়ানোর দাবিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়ে সরকারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকার এখনো দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না নিলেও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এক মাসের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৬ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৯২ টাকায়। অর্থাৎ সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ১২ টাকা বেশি। পাশাপাশি বোতলজাত সয়াবিন খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জিনজিরা কাঁচাবাজারের মুদি ব্যবসায়ী মো. সাগর বলেন, খুচরা পর্যায়ে দোকানপ্রতি ২০ কার্টন চাহিদা দিলে ১০-১৫ কার্টন বোতলজাত সয়াবিন সরবরাহ করা হচ্ছে। এমআরপি মূল্য না বাড়লেও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাইকারি বাজার থেকে সরবরাহ কমিয়ে খোলা সয়াবিনের দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে আমাদেরও বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা। যা দুই সপ্তাহ আগে ৪৫-৫০ টাকা ছিল। প্যাকেট আটা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা। যা আগে ৬০ টাকা ছিল। পাশাপাশি প্রতি কেজি খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। যা আগে ৬০ টাকা ছিল। সঙ্গে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকা। সঙ্গে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি কিনতে ক্রেতার সর্বোচ্চ ২০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

দেশেই চিনি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ

রমজানে স্বস্তি দিতে প্রস্তুতি দেশেই চিনি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ

সয়াবিন তেলে বিষাক্ত ধাতু

গবেষণা প্রতিবেদন সয়াবিন তেলে বিষাক্ত ধাতু

শপথের পর এক টাকাও দুর্নীতি করিনি: আমির হামজা

শপথের পর এক টাকাও দুর্নীতি করিনি: আমির হামজা

ভোজ্যতেল-ডিম-চালসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ চায় স্থায়ী কমিটি

ভোজ্যতেল-ডিম-চালসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ চায় স্থায়ী কমিটি

অ্যান্টিবায়োটিক সেবনকালে চিনি খেলে যে বিপদ হতে পারে

অ্যান্টিবায়োটিক সেবনকালে চিনি খেলে যে বিপদ হতে পারে

নারী-পুরুষের সর্বোচ্চ কতটুকু চিনি খাওয়া দরকার

নারী-পুরুষের সর্বোচ্চ কতটুকু চিনি খাওয়া দরকার

আরও পড়ুন

টার্গেট ডিসেম্বর রাজনীতি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন রূপরেখা প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব উচ্চকক্ষ থেকে

প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব উচ্চকক্ষ থেকে

থাইল্যান্ডে বসে চালাচ্ছেন দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র শেখ পরিবারের ‘ঘনিষ্ঠ’ রাজী ফখরুল এখনো বেপরোয়া

শেখ পরিবারের ‘ঘনিষ্ঠ’ রাজী ফখরুল এখনো বেপরোয়া

হামলার আশঙ্কায় বন্ধ ব্যাংক-ভূমিসেবাসহ বহু ওয়েবসাইট সাইবার সুরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

সাইবার সুরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম