মহিলা পরিষদের গবেষণা
অনলাইন হয়রানির শিকার হন ৬৪ শতাংশ নারী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অনলাইনে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ৬৪ শতাংশ নারী। ব্যক্তিগত ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে অপপ্রচার, ব্ল্যাকমেইল, ভুয়া আইডি থেকে হয়রানিসহ তারা নানা ডিজিটাল সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে তাদের পড়াশোনা ও চাকরি। অথচ প্রতিকার পেতে পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছেন ভুক্তভোগীদের মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। পুলিশের কাছে গিয়েও তাদের ৮১ দশমিক ৮ শতাংশ কোনো অগ্রগতি পাননি বা সামান্য অগ্রগতি হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক গবেষণায় নারীর প্রতি ডিজিটাল সহিংসতার এ চিত্র উঠে এসেছে। ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং অ্যান্ড অ্যাড্রেসিং টেকনোলজি ফ্যাসিলিটেটেড জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার তথ্য উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
গবেষণা অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রযুক্তি-সহায়ক লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ হার ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশ। বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছেন ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণী ও শিক্ষার্থী। হয়রানি, অর্থনৈতিক প্রতারণা, যৌন নির্যাতন, ছবি ব্যবহার করে হয়রানি, ভুয়া আইডি, সাইবার স্টকিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ডিপফেক এ সহিংসতার উল্লেখযোগ্য ধরন। এসব অপরাধে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার প্রধান মাধ্যম হিসাবে উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা যায়, ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভুক্তভোগী অনলাইন মাধ্যমেই অপরাধীদের ব্লক করেছেন। পুলিশের সহায়তা নিয়েছেন মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া নারীদের ৮১ দশমিক ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের মামলায় সামান্য অগ্রগতি হয়েছে বা কোনো অগ্রগতিই হয়নি। এছাড়া ৭১ দশমিক ৬ শতাংশ নারী মনে করেন, অনলাইন সহিংসতার ঘটনায় সমাজ ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করে। ৬৭ শতাংশ নারী কখনো প্রাতিষ্ঠানিক অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ পাননি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, গবেষণার উদ্দেশ্য সামগ্রিক পরিসংখ্যান নির্ধারণ নয়, বরং সহিংসতার কাঠামোগত দুর্বলতা ও সংকট চিহ্নিত করা। সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে পৌঁছে দিয়ে তা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি। তার মতে, জেন্ডার বৈষম্য দূর না হলে সাইবার অপরাধের নতুন রূপ ঠেকানো কঠিন।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, নারীর অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা ক্রমবর্ধমান সহিংসতা। এ সংকট মোকাবিলায় মহিলা পরিষদ ডিজিটাল ডায়েট ও ডিসমিস ল্যাবের সহযোগিতায় গবেষণাটি পরিচালনা করেছে। তথ্যভিত্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখাই গবেষণার মূল লক্ষ্য।
পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপপুলিশ কমিশনার লিজা বেগম বলেন, ভুয়া আইডির আড়ালে অপরাধীর পরিচয় শনাক্ত, ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
