যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর
কোর্ট মার্শালে দোষী সাব্যস্ত, বরখাস্ত লে. কর্নেল ফারুখ
Advertisement
জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কক্সবাজার বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল ফারুখ হোসেন খান। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইয়াবা-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে যুগান্তরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্ত গড়ায় কোর্ট মার্শাল পর্যন্ত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন কক্সবাজার বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল ফারুখ হোসেন খান। তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সেনা সূত্রের দাবি, কোনো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়ে কোর্ট মার্শাল পর্যন্ত গড়ানোর ঘটনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে এই প্রথম। তাদের ভাষ্য-অপরাধ করে তদবির বা প্রভাব খাটিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিষয়ে বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
গত বছরের ২৫ এপ্রিল যুগান্তরে ‘কক্সবাজারে বিজিবি সিও-র ইয়াবা ভাগাভাগি’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে ইয়াবা ভাগাভাগি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিজিবির পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোর্ট মার্শালের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রায় অর্ধশত সাক্ষীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে প্রথম সাক্ষী ছিলেন যুগান্তরের প্রতিবেদক জসিম উদ্দিন।
এরপর গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর যুগান্তরে ‘কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি সেনা কর্মকর্তা’ শিরোনামে আরেকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে ফারুখ হোসেন খানের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরুর তথ্য তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে তদবির এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও প্রকাশ করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে বিচারিক কার্যক্রমে বাধা দিতে একজন সাক্ষীকে গুম করার চেষ্টা এবং অন্য সাক্ষীদের হত্যা ও গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে। প্রতিবেদক ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও প্রকাশিত হয়।
বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই সেনা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শালে ফারুখ হোসেন খানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তাদের দাবি, যুগান্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, অপরাধ করে সেনাবাহিনীতে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
