বাবুপুরবাসীর পাশে প্রধানমন্ত্রী
সেই খেলার মাঠ প্রস্তুতে সরকার দিচ্ছে সাড়ে ৪ কোটি টাকা
যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের বাবুপুরে খেলার মাঠ প্রস্তুত করতে সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। এতে আনন্দে আত্মহারা বাবুপুরবাসী। এর আগে ৩১ অক্টোবর যুগান্তরের শেষ পৃষ্ঠায় ছবিসহ ‘চাঁদা দিয়ে জমি কিনলেন গ্রামবাসী, স্বপ্নের মাঠ পেল বাবুপুর’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় সরকারের পক্ষ থেকে মাঠ প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ দিকে দুপুরে ওই মাঠ পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান ও দেলদুয়ারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যূথীসহ গ্রামবাসী।
গ্রামবাসী জানান, তারা মাঠের জন্য নিজেরাই চাঁদা দিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ করে ৫৯ শতাংশ জমি কিনেছেন। জমির মালিক আরও ১ শতাংশ দান করেছেন। সব মিলিয়ে এখন জমি আছে ৬০ শতাংশ। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাঠের জন্য ১৮০ শতাংশ জমি প্রয়োজন। বাকি ১২০ শতাংশ জমিসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের এই মাঠ প্রস্তুত করতে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা লাগবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রোববার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে বাবুপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান ও দেলদুয়ারের ইউএনও জোহরা সুলতানা যূথীসহ গ্রামবাসীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তাদের ডেকে এনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং সরকারি সহায়তার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবুপুরে খেলার মাঠের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী জমি কেনার অর্থের জোগান দিচ্ছে সরকার।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধান কাটামাড়া হলে ফাঁকা জমিতে খেলত গ্রামের শিশুরা। আবার আবাদ শুরু হলে বন্ধ হয়ে যেত খেলা। সারা বছর খেলাধুলার সুযোগ করে দিতে চাঁদা তুলে মাঠের জন্য জমি কিনেছেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। তাদের সেই উদ্যোগে এবার পাশে দাঁড়াচ্ছে সরকার।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, খেলার মাঠের জন্য যা যা প্রয়োজন, তা করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ডেকে সরকারি সহায়তার কথা জানানো হয়েছে। বাকি জমি কেনার অর্থ সরকার দেবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাকি জমি কিনতে সরকার ৪ কোটি ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৮ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাঠ তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা খোরশেদ আলম বলেন, গ্রামবাসী নিজেদের অর্থে মাঠের জন্য জমি কিনেছেন। এখন সেই জমিসহ মোট ১৮০ শতাংশ জায়গায় সরকার মাঠ তৈরি করে দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্যোগে সরকার এভাবে পাশে দাঁড়াবে, এত বড় একটি মাঠ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করবে, তা কখনো ভাবিনি। আমরা পুরো গ্রামবাসী এতটাই আনন্দিত যে, ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’
ইউএনও জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, আমরা প্রতিমন্ত্রীর সামনে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ প্রস্তুত করতে জমি কেনা থেকে শুরু করে যা যা প্রয়োজন তার একটি খসড়া তুলে ধরেছিলাম। প্রতিমন্ত্রী মাঠ প্রস্তুতের বাকি কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
