রাজশাহী-৩ আসন : প্রচারে সরগরম মাঠ
বিএনপি-জামায়াতে তীব্র লড়াইয়ের ইঙ্গিত
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের অন্যান্য স্থানের মতো রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে প্রচারে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তবে অধিকাংশ আসনেই প্রার্থীদের প্রচার চলছে অনেকটা ঢিমেতালে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনটি। এই আসনের বড় দুই দলের প্রার্থীর গণসংযোগ ও প্রচার বলতে গেলে জমজমাট হয়ে উঠেছে। রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠের গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে নির্বাচনি প্রচার ইতোমধ্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিএনপির শফিকুল হক মিলন ও জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদ প্রচারে একে অপরকে টক্কর দিচ্ছেন।
শনিবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত পবা ও মোহনপুরের বিভিন্ন গ্রাম ও এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত ও নির্দেশিত আকারের পোস্টার ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে প্রধান দুই প্রার্থীর। তাদের কর্মী-সমর্থকরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এলাকার জনাকীর্ণ হাটবাজার ও গ্রাম জনপদে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নিয়ম করে ভোট প্রার্থনা করছেন। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মাইকে ভোটের প্রচারও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সেই সঙ্গে এলাকার মানুষদের মাঝে ভোটের আলোচনা হয়ে উঠেছে দিনযাপনের মূল অনুষঙ্গ। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরাও এলাকায় নিজ নিজ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সূচি অনুসরণ করে সভা-সমাবেশ ও জমায়েতে বক্তব্য দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে দিচ্ছেন হরেক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। সেই ফাঁকে নেতাকর্মীরা ভোটারদের হাতে হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন নিজ প্রার্থীর দলীয় ও এলাকাভিত্তিক উন্নয়নের ইশতেহার।
নির্বাচন কমিশনের রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-৩ আসনটি জাতীয় সংসদের ৫৪নং আসন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের অন্যতম রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন। ২০১৮ সালে তিনি দলীয় মনোনয়নে প্রথমবার এই আসনে নির্বাচন করেছিলেন। ২১ জানুয়ারি প্রতীক পেয়েই তিনি প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। প্রতিদিন নির্বাচনি এলাকার কোথাও না কোথাও সমাবেশ করছেন। এলাকার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তিনি ভোট চাইছেন। দলীয় ৩১ দফাসহ এলাকার উন্নয়নে আলাদা ইশতেহার দিয়েছেন। দলীয় প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামীমুল ইসলাম মুন জানান, শফিকুল হক মিলন বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হবেন-এটা নিশ্চিত। তিনি আরও বলেন, পবা-মোহনপুর এলাকা বিএনপির ঘাঁটি। ধানের শীষের প্রতি এলাকার মানুষের আবেগ রয়েছে। এই আসনে অন্য কোনো প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা নেই।
এই আসনে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, এ আসনের পবার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ খুবই জনপ্রিয় ব্যক্তি। একজন ভালো প্রার্থী হিসাবে এলাকায় তার সুনাম আছে। এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদ জামায়াতের মধ্যপন্থি (মডারেট) নেতা হিসাবে পরিচিত। জামায়াতের অন্য নেতাকর্মীরা যেভাবে দলীয় সভা-সমাবেশে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন তিনি সচেতনভাবে তা পরিহার করেন। এলাকার দলমত নির্বিশেষে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। যাচ্ছেন ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে। নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নসহ সুযোগ-সুবিধা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করছেন তিনি। এলাকার জনগণের নিরাপত্তাসহ চাঁদাবাজিমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিতের কথা বলছেন।
জয়ের ব্যাপারে আবুল কালাম আজাদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী প্রকৃতপক্ষে জনগণের দল। তার দল ক্ষমতায় গেলে সমাজ ও দেশ থেকে মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটা স্তরে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি আশা করেন রাজশাহী-৩ আসনের মানুষ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করবেন।
রাজশাহী-৩ আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন-বিএনপির শফিকুল হক মিলন ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদ দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন লাঙ্গল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফজলুর রহমান হাতপাখা ও আমজনতা দলের সাইদ পারভেজ প্রজাপতি প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

