‘এভাবে নীরবে একরাশ অভিমান নিয়ে চলে গেলা!’
Advertisement
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
চেসি ত্রিপুরা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিজ জন্মস্থান খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার সাপমারায় ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
এদিকে তার মৃত্যুতে সহপাঠীরা শোক প্রকাশ করেছেন। একজন তার ফেসবুকে লিখেছেন- ‘এভাবে নীরবে একরাশ অভিমান নিয়ে চলে গেলা!’
এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টায় তার লাশ জন্মস্থানে পৌঁছলে সেখানে এক শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টা ৭ মিনিটে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাজশাহীর বাগমারায় এক সহপাঠীর বাসায় পূজার নিমন্ত্রণে গিয়েছিলেন চেসি ও তার সহপাঠী। সন্ধ্যায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ক্যাম্পাসে ফেরার পথে রাজশাহীর দুর্গাপুরে একটি বেপরোয়া গতির ট্রাক অটোরিকশাটি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান চেসি।
প্রথমে তাকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাকে ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ ঘোষণা করেন। তবে বাবা-মায়ের ইচ্ছায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাত ১১টা ৭ মিনিটে ভেন্টিলেশন খুলে নেওয়ার পরপরই তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
চেসির অকাল প্রয়াণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, ছাত্রসংগঠন, শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শোক প্রকাশ করে স্মৃতিচারণ করছেন।
তার সহপাঠী উজ্জ্বল তঞ্চঘ্যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমার এখনো বিশ্বাস হয় না তুই আর আমাদের মাঝে নেই। তোর সঙ্গে আর কাব্যিক সুরের তালে উপস্থাপনা করা হবে না, চেসি ত্রিপুরা। রেস্ট ইন পিস। আমরা ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ যতদিন ক্যাম্পাসে অবস্থান করব, ততদিন তুইও আমাদের সঙ্গে থাকবি।’
আরেক সহপাঠী আফরিন বিনতে ওয়াজিদ লিখেছেন, ‘আমার আর তোমার রোল পরপর থাকায় কতগুলো ভাইভা একসঙ্গে দিলাম! সামনের ভাইভাগুলো আমি এখন কিভাবে ফেস করব, চেসি ত্রিপুরা? কিভাবে! এভাবে নীরবে একরাশ অভিমান নিয়ে চলে গেলা!’
