সাংবাদিকের ওপর হামলা: রাবির হল প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি
Advertisement
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের দাবির মুখে শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে (বৃহস্পতিবার) প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিহ্নিত দোষীদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার এবং চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এদিকে এ ঘটনার পেছনে ইন্ধন ও উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা আলোচনায় বসে।
বিক্ষোভকারীদের ছয়টি দাবির প্রেক্ষিতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উভয়ের মধ্যে যুক্তিখণ্ডন চলে। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
উপাচার্য বলেন, আমরা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট পাব- এটাই আশা। এরপর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী যে শাস্তির বিধান আছে, তা নিশ্চিত করা হবে। এরপর পরবর্তী তদন্তের জন্য সিন্ডিকেট সভা ডেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, সেটার ওপর আস্থা রাখুন।
এর আগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করার প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধিরা।
বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে উপাচার্য মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যে হামলার ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হবে। এরপর সিন্ডিকেটে প্রয়োজনীয় কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে জরুরি সভা আহ্বান করে তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রত্ব নেই, তাদের সনদ বাতিল এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যাদের দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাদের নাম উল্লেখ করে মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
এ ছাড়া এই ঘটনার পেছনে যারা ইন্ধন ও উসকানি দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, এ ঘটনার পেছনে দোষী কেউ-ই ছাড় পাবে না। শুধু যে চিহ্নিত তা নয়, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে যারা ঘটনাকে এতদূর এনেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন ভবনে কথায় কথায় তালা দেওয়ার বিষয়টাও তদন্ত সাপেক্ষে বিচার করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহ পরান বলেন, আমাদের দাবির একটি অংশ প্রশাসন মেনে নিয়েছে। একই সঙ্গে বাকি দাবিগুলো মেনে নেওয়ার রোডম্যাপ তারা দিয়েছে। প্রশাসন ঠিকভাবে কাজ করলে আমরা সহযোগিতা করব। তবে কোনো গাফিলতি পেলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।
এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে কর্মরত তিনটি সাংবাদিক সংগঠন প্রশাসনের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এ বয়কট কর্মসূচি চলবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মীর কাদির বলেন, আমাদের দাবির বিষয়ে প্রশাসন কিছু সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তবে আমাদের বেশ কিছু দাবি মেনে নিতে প্রশাসন সময় চেয়েছে। আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো সংবাদ কভার করব না।
এর আগে রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন। আহত সাংবাদিকদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তিন নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার এবং ছয় নেতাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
