৬৩ পরীক্ষার্থীর জন্য ১৮শ শিক্ষার্থীর কলেজ দেড় মাস বন্ধ
আবু বাসার আখন্দ, মাগুরা
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
জেলার ১৮শ শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠান মাগুরা আদর্শ কলেজের সম্মান শ্রেণিসহ সব বর্ষের শিক্ষা কার্যক্রম দেড় মাসের জন্য বন্ধ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাগুরায় মাত্র ৬৩ জন দাখিল পরীক্ষার্থীর সুবিধার জন্য জেলার ১৮শ শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠান মাগুরা আদর্শ কলেজের সম্মান শ্রেণিসহ সব বর্ষের শিক্ষা কার্যক্রম দেড় মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আগামী ৪ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে কলেজটি। এতে কলেজটির শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এ বছর জেলার চারটি উপজেলার মোট ১ হাজার ৭০৪ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে শ্রীপুর উপজেলায় মাত্র একটি কেন্দ্র এবং মাগুরা সদর, শালিখা এবং মহম্মদপুরে দুটি করে কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তথ্যমতে, বরাবরই মাগুরা সদর উপজেলার ১৭টি মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য মাগুরা সদরের সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা এবং ৭টি মাদ্রাসার জন্য বেরইল দারুল হুদা ফাজিল মাদ্রাসায় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়ে থাকে; কিন্তু এ বছর নিজ প্রতিষ্ঠানে থেকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না রাখায় মাগুরা শহরের সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার ৬৩ শিক্ষার্থীকে দূরের বেরইল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। যে কারণে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য শহরের এই কলেজটি বন্ধ করে কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এতে ওই ৬৩ শিক্ষার্থীর দূরে যাওয়ার দুর্ভোগ কমলেও বিকল্প ব্যবস্থা না খুঁজে দেড় মাসের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণায় কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মাগুরা আদর্শ কলেজের প্রথম বর্ষ মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী রিমা বিশ্বাস বলেন, এমনিতেই কলেজে ক্লাস কম হয়ে থাকে। তার ওপর স্কুল লেভেলের দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র কলেজে দিয়ে ক্লাশ বন্ধ করা খুবই হাস্যকর।
আবদুল আলিম, ওলিয়ার রহমান, ফসিয়ার রহমানসহ অনেক অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে একই রকম প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
শহরের ফসিয়ার রহমান নামে একজন অভিভাবক বলেন, এসএসসি এবং দাখিল পরীক্ষার জন্য অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সেখানে কেন্দ্র স্থাপন না করে চালু থাকা কলেজ বন্ধ করে মাদ্রাসা কেন্দ্র করা খুবই অযৌক্তিক।
অভিভাবক ওলিয়ার রহমান বলেন, প্রতি বছর কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কিংবা নেতা হওয়ার জন্য অনেকে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন; কিন্তু কলেজ বন্ধ থাকল না খোলা থাকল সে বিষয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই।
মাগুরা আদর্শ কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, কলেজ বন্ধ করে দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র বানানোর বিষয়ে কলেজে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আমাদের জানানোও হয়নি। বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানের একটিতে কেন্দ্র স্থাপন করা যৌক্তিক হতে পারত।
চলতি দাখিল পরীক্ষায় মাগুরা আদর্শ কলেজ কেন্দ্রের সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মাগুরা সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুল্লাহ। তিনি বলেন, এই কেন্দ্রে মোট ৩৭৫ জন পরীক্ষা দিচ্ছে। এর মধ্যে আমার মাদ্রাসার ৬৩ জন শিক্ষার্থী; কিন্তু তাদের নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নেই। যে কারণে বিকল্প কেন্দ্র স্থাপনের জন্য শহরের বন্ধ থাকা দুটি স্কুলসহ চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছিল। তার মধ্য থেকে আদর্শ কলেজকে নির্বাচন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মাগুরা জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। তিনি জুম মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল কাদের কথা বলেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল কাদের জানান, এ বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভায় ওই কলেজের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন। সেই সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই সেখানে কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
তবে মাগুরা আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ কাবিয়ার রহমান বলেন, জেলা প্রশাসক আমাদের কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি। ক্লাশ বন্ধ রেখে মাদ্রাসা কেন্দ্র স্থাপনে শিক্ষক অভিভাবকদের আপত্তি থাকলেও জেলা প্রশাসক এটিই বেটার অপশন মনে করেছেন।
